সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

সাড়ে ১৪ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফের ঘোষণা বিজয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

সাড়ে ১৪ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফের ঘোষণা বিজয়ের

১৪ লাখের বেশি প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সমবায় ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের দক্ষিনী রাজ্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। 

সোমবার (১৭ আগস্ট) টিভিকে সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে রাজ্য বিধানসভায় দেওয়া ভাষণে তিনি এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত জানান।

দক্ষিনী সিনেমার সুপারস্টার থেকে রাজনীতিদিক বনে যাওয়া বিজয় বলেন, তীব্র খরা, অনিয়মিত মৌসুমি বায়ু এবং ঋণের বোঝায় জর্জরিত কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তি দিতেই এই বিশাল আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। 

বিজয় জানান, মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই তামিলনাড়ু সরকার ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছিল। পরে কৃষকদের ঋণের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে এই মওকুফ প্রক্রিয়াটি কয়েকটি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছে, যেন প্রান্তিক চাষিরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেন। এর মধ্যে সমবায় ব্যাংক থেকে নেওয়া ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত কৃষিঋণের ১০০ শতাংশ মওকুফ করা হবে।

এছাড়াও ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ রুপি পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার রুপি এবং ১ লাখ রুপির বেশি ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার রুপি মওকুফ সুবিধা মিলবে।

মুখ্যমন্ত্রী বিজয় আরও বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবিতে কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত ৯৫৩ কোটি ৬ লাখ রুপি সহায়তা দেবে টিভিকে সরকার।

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক- রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) কড়া অর্থনৈতিক নির্দেশিকা এবং রাজ্যের সীমিত বাজেটের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দেশটির কৃষি ইতিহাসের অন্যতম বড় কল্যাণমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বিজয়ের এই ঘোষণার পর তামিলনাড়ু সরকারের মোট কৃষিঋণ মওকুফ প্যাকেজের আকার দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৬ হাজার ২২০ কোটি রুপিতে। সরকারি হিসাবে, এর আগের ও বর্তমান দফা মিলিয়ে সর্বমোট ১৪ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি কৃষক সরাসরি ঋণের জাল থেকে মুক্তি পেলেন। শুধুমাত্র বর্তমানের এই বিশেষ শেষ ধাপে অতিরিক্ত আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার কৃষক সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত হওয়ার সুবিধা পাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশাল ঋণ মওকুফ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা তামিলনাড়ু সরকারের জন্য সহজ ছিল না। রিজার্ভ ব্যাংকের কঠোর আর্থিক নিয়ম এবং রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব ঘাটতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা মহলে সংশয় ছিল। 

তবে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় স্পষ্ট করে জানান, ‘কৃষকরা দেশের মেরুদণ্ড। দেশের অন্নদাতাদের আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে দেওয়া সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ঋণের বোঝা নেমে যাওয়ায় কৃষকরা এখন নতুন উদ্যমে আগামী মৌসুমের চাষাবাদের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবেন, যা রাজ্যের সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।’

মুখ্যমন্ত্রীর নতুন এই ঘোষণায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক নেতারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সমবায় ব্যাংকগুলোর এই ঋণ মওকুফ গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে এবং স্থানীয় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর