মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে ফের ইসলামাবাদে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান।
সোমবার (১০ আগস্ট) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত সময়ে দুই নেতা (গালিবাফ ও আরাগচি) ইসলামাবাদ সফর করবেন’। তবে সফরের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
বাঘাই বলেন, ‘দুই প্রতিবেশী (ইরান-পাকিস্তান) দেশের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। এ সম্পর্কের অংশ হিসেবে পারস্পরিক সফর ও মতবিনিময় স্বাভাবিক বিষয়’।
এর আগে আগস্টের শুরুতে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক পৃথকভাবে টেলিফোনে আরাগচি ও বাঘের গালিবাফকে দ্রুত পাকিস্তান সফরের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দ্বন্দ্ব থামাতে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে পাকিস্তান। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে তারা দুই পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি এবং জুন মাসে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামের একটি কৌশলগত খসড়া চুক্তি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রেখেছিল। গত জুলাই মাসে চুক্তিটি ভেঙে যায়, যার ফলে আবারও সংঘাতে জড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
তবে দুই সপ্তাহের তীব্র সংঘাতের সংকট সমাধানের লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আকস্মিকভাবে ইরানে মার্কিন বোমাবর্ষণ ও সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দেন। ট্রাম্পের এই হামলা স্থগিতের পর পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং নতুন চুক্তি প্রণয়নে ইসলামাবাদ এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরআগে চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনার অংশ হিসেবে পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি ইরানি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ সফর করে। ওই সফরের ধারাবাহিকতাতেই জুনের ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ চুক্তিটি সম্ভব হয়েছিল।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইরানি নেতাদের এবারের সফরটিকে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে এবং দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: আনাদোলু, ডন
এমএইচআর




