সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

কট্টরপন্থী মোহসেন রেজাইকে নিরাপত্তা প্রধান করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

কট্টরপন্থী মোহসেন রেজাইকে নিরাপত্তা প্রধান করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের নীতি-নির্ধারণী শীর্ষ নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় রদবদল আনলো ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসি)-এর নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই। 

রোববার গভীররাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক ডিক্রির মাধ্যমে তাকে এই পদে স্থলাভিষিক্ত করেন।

পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ের মুখপাত্র মেহদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিবের পদ থেকে মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর পদত্যাগ করে নতুন দায়িত্ব নেওয়ায় প্রেসিডেন্ট মোহসেন রেজাইকে কাউন্সিলটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সচিব হওয়ার পাশাপাশি মোহসেন রেজাইকে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে নিজের প্রতিনিধি হিসেবেও মনোনীত করেছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

এদিকে মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

ইরানের রাজনৈতিতে একজন কট্টরপন্থি নেতা হিসেবে ৭১ বছর বয়সী রেজাই ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে ১৯৮০-৮৮ সালের ঐতিহাসিক ইরান-ইরাক যুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। 

এছাড়াও দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের নীতি-নির্ধারণী সংস্থা ‘এক্সপেডিয়েন্সি ডিসকার্নমেন্ট কাউন্সিলের’ জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সচিব হিসেবে যুক্ত আছেন রেজাই। এছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির অধীনে অর্থনৈতিক বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এরআগে গত মার্চে এক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) তৎকালীন সচিব আলী লারিজানি। এরপর সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরকে এসএনএসসি প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। 

প্রসঙ্গত, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসি)-এর সচিব বা প্রধানের মূল কাজ হলো দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা নীতি এবং বৈদেশিক সম্পর্কের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। দেশটির ক্ষমতা কাঠামোতে এই পদের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ এবং তাকে ইরানের অন্যতম প্রধান নীতি-নির্ধারক হিসেবে গণ্য করা হয়।


সূত্র: রয়টার্স

এমএইচআর

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর