রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

মমতা বন্দোপাধ্যায়ের গাড়িবহরে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

মমতা বন্দোপাধ্যায়ের গাড়িবহরে হামলা
হামলার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেন মমতা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৯ আগস্ট) হালিশহরে এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় তার প্রাণহানিও ঘটতে পারত বলে দাবি করেছেন মমতা।

মমতার অভিযোগ, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশকে সামনে রেখেই তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়েছেন। একই সময় বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ি ঘিরে ধরে কাদা ছোড়ার পাশাপাশি জুতা ও পানির বোতল নিক্ষেপ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমে বলা হয়, ঘটনার পর সাংবাদিকদের মমতা বলেন, ‘পুলিশের সামনেই বাইরের সমাজবিরোধীরা আমার গাড়িতে পাথর ছুড়েছে। গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে আমার মাথা ফেটে যেত, মরেও যেতে পারতাম।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগে কখনো এমন হামলার মুখে পড়েননি। তাকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও দাবি করেন মমতা। তার অভিযোগ, পুলিশ শুধু বিজেপিকে নিরাপত্তা দেয়।

জানা গেছে, কাঁচরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মার স্বামী বীরজু কেওট পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন—এমন অভিযোগের পর হালিশহরে উত্তেজনা চলছিল। সেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রোববার সেখানে যাচ্ছিলেন মমতা। পথে তাকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ি ঘিরে ধরে কাদা ছোড়েন এবং জুতা ও পানির বোতল নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এলাকায় ‘চোর ভাগাও’ স্লোগানও শোনা যায়।

আরও পড়ুন

‘অপ্রতিরোধ্য’ মমতা কেন চরম বিপর্যয়ে

আমাকে থামাতে হলে মেরে ফেলতে হবে, হুঙ্কার মমতার

ঘটনার সময় মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পুলিশকে ব্যবহার করে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।

তবে মমতার গাড়িতে হামলার অভিযোগের সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে দলটি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বীরজু কেওটকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গত শুক্রবার আদালত তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠান। এরপর পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

বীরজুর স্ত্রী ও সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মার অভিযোগ, হেফাজতে নির্যাতন ও মারধরের কারণেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ করেছেন, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ বীরজুকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর