শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কিত ছেলেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৭ এএম

শেয়ার করুন:

ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কিত ছেলেরা
ইমরান খান ও তার দুই ছেলে

পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কিত তার ছেলেরা। তারা বলেছেন, আমরা বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কিত। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের বাবার সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না।

সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার ও রাজনীতিক এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির মুক্তির দাবিতে গতকাল বুধবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) হাজার হাজার কর্মী।

ইমরান খানের গ্রেফতারের তৃতীয় বার্ষিকীতে কাসিম খান ও সুলাইমান ঈসা খান সিএনএনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা বলেন, ‘বাবার সর্বশেষ অবস্থা আমরা জানি না। কারণ, সাত মাস ধরে তার পরিবার, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।’

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শাহবাজ শরিফ সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন ইমরান। তিনি অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে (যদিও সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে)। 

এর জেরে তার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন–পীড়ন চালায় শাহবাজ সরকার। দলের নেতাদের গ্রেফতার করা হয় এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

কাসিম ও সুলাইমান লন্ডন থেকে সিএনএনের সঙ্গে কথা বলেছেন। ২০০৪ সালে ইমরান খান ও তার প্রথম স্ত্রী (এই দুজনের মা) জেমিমা গোল্ডস্মিথের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর পর থেকেই তারা লন্ডনে বসবাস করছেন।

যুক্তরাজ্য থেকেই বাবার কারাবাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন এই দুই ভাই। তাদের দাবি, যখনই তারা গণমাধ্যমে কথা বলেন, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের বাবার সঙ্গে দেখা করার পথ আরও কঠিন করে তোলে। ভিসা দিতে দেরি করে বা অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলে তাদের আটকে দেওয়া হয়।

কাসিম খান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। আমরা সেখানে যেতে চাই, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। আমাদের ভিসা না দেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।’

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় সিএনএনকে জানিয়েছে, কাসিম ও সুলাইমান দুজনের কাছেই ‘ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড ফর ওভারসিজ পাকিস্তানিজ’ (প্রবাসী পাকিস্তানিদের জাতীয় পরিচয়পত্র) রয়েছে। এই কার্ড থাকলে তাদের পাকিস্তানে প্রবেশের জন্য ভিসার প্রয়োজন নেই।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, তাদের এই দাবি ‘বিভ্রান্তিকর’। একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার হাতিয়ার বানাচ্ছেন বলেই মনে হচ্ছে।

তবে কাসিম ও সুলাইমান জানিয়েছেন, তাদের ওই কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তা আর নবায়ন করা হয়নি। তবে তাদের এই দাবির বিষয়ে মন্ত্রণালয় কিছু জানায়নি।

চলতি সপ্তাহে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে তাদের পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার ‘নিঃশর্ত অধিকার ফিরিয়ে দিতে’ পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনটি বলেছে, এই দুজনকে অবশ্যই পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। তাদের বেআইনিভাবে যে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের ক্ষমতায় ছিলেন ইমরান খান। ওই বছর পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। এর এক বছর পর দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যান তিনি।

তবে ইমরান ও তার সমর্থকদের দাবি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকারের বিরোধিতার কারণেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে।

এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর