ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক শহর নেপলসে ৪.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে নেপলসের একাধিক এলাকায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ও গির্জা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিধ্বস্ত হয়েছে।
দেশটির ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণকারী সরকারি সংস্থা (আইএনজিভি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নেপলসের পশ্চিমে অবস্থিত ঘনবসতিপূর্ণ আগ্নেয়গিরি অঞ্চল ‘ক্যাম্পি ফ্লেগ্রেই’ এলাকায়। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার গভীরে।
আইএনজিভি-এর বিজ্ঞানীরা এলাকাটিতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরবর্তী মৃদু কম্পন বা আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অত্যন্ত অগভীর উৎস হওয়ার কারণেই কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয় এবং ক্ষয়ক্ষতিও তুলনামূলক বেশি হয়েছে। ভূমিকম্পের আঘাতের পরপরই নেপলস ও এর আশেপাশের বেশ কিছু এলাকা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এসময় চরম আতঙ্কে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা রাস্তায় নেমে আসেন।

এদিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নেপলস এবং কাম্পানিয়া অঞ্চলের প্রধান ট্রেন ও মেট্রো (সাবওয়ে) চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।
নেপলসের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভূমিকম্পে চারজন আহত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, দুটি প্রধান টেকটোনিক প্লেট—ইউরেশিয়ান প্লেট এবং আফ্রিকান প্লেটের সংযোগস্থলের ওপর অবস্থিত ইতালিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। ১৯০৮ সালে ইউরোপের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল দেশটিতে। দক্ষিণ ইতালির সিসিলি ও কালাব্রিয়া অঞ্চলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট প্রায় ১২ থেকে ১৩ মিটার উঁচু সুনামি আনুমানিক ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়।
সূত্র: রয়টার্স, ইউরো নিউজ
এমএইচআর




