শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরলেন তসলিমা নাসরিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরলেন তসলিমা নাসরিন

দীর্ঘ ১৯ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ফিরছেন বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত ও বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এরআগে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তসলিমা লেখেন, ‘আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।’

জানা গেছে, আগামীকাল শনিবার (১ আগস্ট) কলকাতার রবীন্দ্র সদনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছেন। একাধিক সংগঠন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আয়োজকদের দাবি, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

২০০৭ সালে তসলিমার ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কলকাতার একটি অংশ। সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছিল ব্যাপক উত্তেজনা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, সেনা মোতায়েন করতে হয়েছিল প্রশাসনকে। সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তৎকালীন বাম সরকার তসলিমার বিতর্কিত ওই বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। রাতারাতি কলকাতা ছাড়তে বলা হয় লেখিকাকে। 

পরবর্তীতে ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও, তসলিমার ক্ষেত্রে এই ‘অলিখিত নিষেধাজ্ঞা’ বহাল রেখেছিল তৃণমূল সরকার।  অবশেষে দীর্ঘ সময় পার করে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনের পটপরিবর্তনের আলোয় শাসনক্ষমতায় পালাবদলের পর ফের রাজ্যে ফিরছেন তসলিমা।

প্রসঙ্গত, আশির দশকের শেষের দিকে তসলিমা নাসরিনের কলাম এবং পরবর্তীতে উপন্যাসগুলোতে নারী নির্যাতন ও ইসলাম বিদ্বেষ সমাজের রক্ষণশীল অংশকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। ১৯৯৩ সালে তার বিতর্কিত উপন্যাস ‘লজ্জা’ প্রকাশের পর ধর্মীয় সংগঠনগুলো তার ফাঁসির দাবি করে এবং তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করা হয়। 

১৯৯৪ সালে তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর, তিনি প্রায় দুই মাস আত্মগোপনে থাকেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিল করে তৎকালীন সরকার। বিভিন্ন সময় তিনি দেশে ফেরার চেষ্টা করলেও কোনো সরকারই তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয়নি। এরপর ইউরোপে গিয়ে সেখান থেকে এসে কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করেন। তবে সেখান থেকেও তাকে বিতাড়িত করা হয়।

সূত্র: আনন্দবাজার

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর