মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

হামাসের অস্ত্র সমর্পণের চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলল বোর্ড অব পিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:০২ এএম

শেয়ার করুন:

হামাসের অস্ত্র সমর্পণের চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলল বোর্ড অব পিস
ছবি: সংগৃহীত

গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী রূপান্তর প্রক্রিয়া তদারকির জন্য গঠিত বোর্ড অব পিস জানিয়েছে, হামাস যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের জন্য একটি বিস্তারিত রোডম্যাপে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টিও রয়েছে।

বোর্ড অব পিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, প্রথমবারের মতো হামাস তাদের সব অস্ত্র সমর্পণের জন্য একটি বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনায় আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছে। এর পর ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।

বোর্ড অব পিস আরও বলেছে, কয়েক মাস ধরে চলা নিবিড় ও আন্তরিক আলোচনার পর এ চুক্তি হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজায় নতুন শাসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। এ পরিকল্পনা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজায় উচ্ছ্বাস নেই, যুদ্ধ বন্ধের অপেক্ষায় ফিলিস্তিনিরা

তবে গাজায় থাকা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এ ঘোষণার তেমন কোনো উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে গাজার মাটিতে ফিলিস্তিনিদের বাস্তব অভিজ্ঞতার বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

গাজা সিটি থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক ইব্রাহিম আল-খালিলি জানান, গত বছরের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতিও গাজার পরিস্থিতিতে তেমন কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি। সেখানে এখনো ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কার মধ্যে বসবাস করছেন ফিলিস্তিনিরা। প্রতিদিনই গাজার বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সাধারণ ফিলিস্তিনিদের কাছে এখন আরও জরুরি প্রশ্ন হলো—ট্রাম্পসহ অন্য নেতাদের এসব ঘোষণার বাস্তব প্রভাব তারা কবে দেখতে পাবেন।

ফিলিস্তিনিরা সহিংসতার অবসান চান। তারা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে চান এবং নিজেদের বাড়িতে ফিরতে চান। যুদ্ধের কারণে গাজার অধিকাংশ বাড়িঘরই ধ্বংস হয়েছে।

তারা এমন একটি পরিস্থিতি দেখতে চান, যাতে মনে হয় সত্যিই এই যুদ্ধের অবসান ঘটছে।  

ইসরায়েল চুক্তি মেনে চলবে তো?

গাজা নিয়ে করা চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে ইসরায়েল শর্ত পরিবর্তন করতে পারে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সান ফ্রান্সিসকোর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান স্টিফেন জুনস।

তার মতে, ইসরায়েল তাত্ত্বিকভাবে চুক্তির শর্তে সম্মত হলেও পরে সেগুলোর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিতে পারে কিংবা চুক্তি লঙ্ঘন করতে পারে। কারণ, তারা জানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে।

জুনস বলেন, ওয়াশিংটন ইসরায়েলের এমন ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না—এমনকি হঠাৎ করে সেই ব্যাখ্যাকে সমর্থনও করতে পারে। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি পক্ষকে দায়ী করেছে।

জুনসের মতে, চুক্তিটির সবচেয়ে দুর্বল দিক হলো—ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত চুক্তি মেনে চলবে কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি বাস্তবায়নে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে কি না।

গাজায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনায় যা আছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গাজা বোর্ড অব পিস হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। তিনি এটিকে নতুন ফিলিস্তিনি সরকার প্রতিষ্ঠা ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, অস্ত্রের তালিকা তৈরির জন্য ১৪ দিনের মধ্যে একটি সময়সূচি প্রস্তুত করতে হবে। আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতি থাকলে এ সময় বাড়ানো যাবে।

একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটি অস্ত্রের তালিকা তৈরি ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া তদারক করবে এবং বাস্তবায়ন করবে। গাজায় অস্ত্র রাখার, সংরক্ষণ করার বা নিয়ন্ত্রণের একমাত্র কর্তৃত্ব থাকবে এই কমিটির হাতে। এতে ফিলিস্তিনি বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

কোনো অস্ত্র ইসরায়েল বা অন্য কোনো ফিলিস্তিনি-বহির্ভূত পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে না।

একটি আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং নতুন একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া তদারক করবে। একই সময়ে যাচাইয়ের অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইসরায়েল ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করে নির্ধারিত অবস্থানে যাবে।

প্রথম পর্যায়ে ভারী অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির কারখানা, অস্ত্রের গুদাম এবং গাজার বিস্তৃত সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ককে নিরস্ত্রীকরণ ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে।

তবে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে জাতীয় কমিটির গাজায় প্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ও রয়েছে।

নিরস্ত্রীকরণের প্রতিটি ধাপ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলো থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার এবং বৃহত্তর শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে।

সূত্র: আল জাজিরা

এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর