ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে তিনি এক ঘণ্টারও কম সময়ে দেশটির অধিকাংশ সেতু ধ্বংস করে দিতে পারেন বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই মুহূর্তে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তারা (ইরান) যদি চুক্তি না করে, তবে আমি ফিরে গিয়ে কাজ শেষ করব। আর আমি এক ঘণ্টারও কম সময়ে তাদের বেশিরভাগ সেতু ধ্বংস করে দিতে পারি।’
.@POTUS: "Already, it'll take them many years to ever rebuild, and if I go back and finish up the job as some people would like with the bridges... it takes them ten years to build a bridge... I think we have a very strong position right now. They know I'm going to do that if… pic.twitter.com/Ly3PFzgxSG
— Rapid Response 47 (@RapidResponse47) July 28, 2026
একই সঙ্গে একদিনের মধ্যে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র নিশ্চিহ্ন করার ক্ষমতা রাখেন বলেও দাবি করে তিনি বলেন, ‘একটি দেশের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু তৈরি করা সবচেয়ে কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ কাজ। এগুলো একবার ধ্বংস হলে তা পুনর্গঠনে ইরানের বহু বছর বা যুগ লেগে যাবে’।
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ‘মানুষ চায় আমি যেন এটা করি… তবে আমি মনে করি প্রায় ৯ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ বিদ্যুৎহীন, সংযোগহীন… এটা এক অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি হবে। তাই আমার মনে হয়, যদি আমি এটা করা এড়াতে পারি, তবে আমি সেটাই করতে চাই।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, তিনি ইরানের সমুদ্রের পানি শোধণাগার (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) আক্রমণ করতে চান না। তার মতে, সেখানে হামলা করলে সাধারণ নাগরিকেরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা তিনি এড়াতে চান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ১২টি সেতু এবং দুটি টানেল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।
মঙ্গলবার দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোজাহেরানি এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে সরকারি অবকাঠামোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মার্কিন বিমান ও ড্রোন হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটের সড়ক সেতু ও রেললাইন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে বন্দর আব্বাস ও হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী এলাকার সংযোগ সড়কগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সড়ক ও সেতু ধ্বংসের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি শোধনাগারে হামলার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা তীব্র পানি সংকটে পড়েছেন। এছাড়াও মৎস্যজীবীদের নৌকা ও পর্যটন ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান আঘাত করলে প্রতিবারই দেশটির একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এসব হামলা সেই হুমকিরই প্রতিফলন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানের ইমসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) যাতায়াত ও সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দিতে এই হামলা চালিয়েছে তারা। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমোজগান প্রদেশ এবং বন্দর আব্বাস অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




