যুক্তরাষ্ট্র ওইসরায়েলের হামলায় ইরানের কারাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। এর জবাবে ৮ সেতুর ‘হিট লিস্ট’ প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেছেন, ‘বেশি দেরি হওয়ার আগে’ ইরানের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে রাজি হওয়া।
বিজ্ঞাপন
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা দেশটির ‘নৈতিক পতন’ এর বার্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া বার্তায় একটি ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর ছবি দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা, নির্মাণাধীন সেতুগুলোতে হামলা চালিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শত্রুর পরাজয় এবং নৈতিক পতনের বার্তা দেয়।
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইরানের সর্বোচ্চ বি১ সেতুতে যুক্তরাষ্ট্র ওইসরায়েলের দুই দফায় হামলার পর উপসাগরীয় দেশ ও জর্ডানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে পেট্রোল-ডিজেলের দামে রেকর্ড
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রকাশ করা এই তালিকায় রয়েছে কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ সমুদ্র সেতু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শেখ জায়েদ সেতু, আল মাকতা সেতু এবং শেখ খলিফা সেতু, সৌদি আরবকে বাহরাইনের সাথে সংযোগকারী কিং ফাহদ কজওয়ে সেতু, জর্ডানের কিং হুসেন ব্রিজ, দামিয়া ব্রিজ এবং আবদুন ব্রিজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু সেতু হিসেবে পরিচিত একটি সেতু আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারির পর এই হামলা চালানো হয়। ১৩৬ মিটার উঁচু বি১ সেতুটির নির্মাণকাজ এখনও চলছে। এটি তেহরানকে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কারাজের সাথে সংযুক্ত করেছে।
ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলবোর্জ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর ঘোদরাতুল্লাহ সাইফ বলেছেন, এ হামলায় আটজন নিহত এবং আরও ৯৫ জন আহত হয়েছেন।
এআরএম

