সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র ইয়ানবুকে যুক্ত করা একাধিক সংবেদনশীল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ও পরিবহন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুথি।
সোমবার (২৭ জুলাই) এক ভিডিও বার্তায় গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদি ড্রোনের অনুপ্রবেশের জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ড্রোনের মাধ্যমে পূর্ব সৌদি আরব থেকে ইয়ানবুতে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ও পরিবহনের সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু সংবেদনশীল স্থান ও পয়েন্টকে লক্ষ্যবস্তু করেছি।’
সৌদি আরব আক্রমণ বন্ধ না করলে তাদের আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এদিকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, কিংবা কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের আবকাইক তেল স্থাপনায় আগুন লেগেছে।
آتشسوزی در مهمترین تاسیسات نفت عربستان
— خبرگزاری فارس (@FarsNews_Agency) July 27, 2026
تصاویر ماهوارهای ستونهایی از دود و آتش در تاسیسات بقیق عربستان که ساعاتی پیش هدف حملات پهپادی و موشکی قرار گرفت را نشان میدهد.
۱/۲ https://t.co/xTGsJsb7Tu pic.twitter.com/YoDC3jayyT
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইয়েমেনের রাজধানী সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলার জের ধরে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি রিয়াদের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় ইরান-সর্মর্থিত হুথিরা। অবরোধের অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে চলাচলকারী সৌদি আরবের ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’ নামের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় গোষ্ঠীটি।
হুথিদের এই ‘বেপরোয়া’ পদক্ষেপের জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গত ২৪ ও ২৫ জুলাই হুথি-নিয়ন্ত্রিত বন্দরনগরী হোদেইদাহ এবং কামারান দ্বীপে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৌদি বিমান হামলার পরপরই দেশটির লোহিত সাগর তীরবর্তী শহর ইয়ানবু ও জিজানে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি আরামকো-এর স্থাপনা লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন নিক্ষেপ করে হুথিরা।
উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি এই পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান বৃহত্তর উত্তেজনার অংশ হিসেবে এই সংঘাতকে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু
এমএইচআর




