রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

২০৩৬ সালে ‘টাকার’ কোনো গুরুত্ব থাকবে না, দাবি ইলন মাস্কের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

২০৩৬ সালে ‘টাকার’ কোনো গুরুত্ব থাকবে না, দাবি ইলন মাস্কের

‘২০৩৬ সালে অর্থ বা টাকার কোনো গুরুত্ব থাকবে না’— এই কথাগুলো হুবহু বলেছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক। 

সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইকোনোমিস্ট-এর প্রধান সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোসকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা ও মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী।

মাস্কের মতে, মানুষ মূলত খাবার, বাসস্থান, যাতায়াত এবং বিনোদনের মতো পণ্য ও পরিষেবার জন্য টাকা ব্যবহার করে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে এআই এবং হিউম্যানয়েড রোবট মানুষের চাহিদার চেয়েও অনেক বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। ফলে তখন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রথাগত শ্রম বা চাকরি করার প্রয়োজন থাকবে না।

অন্যদিকে, যখন রোবট ও এআই সমস্ত উৎপাদনশীল কাজ একাই করতে পারবে, তখন পণ্য ও সেবার উৎপাদন এত সস্তা এবং সহজলভ্য হবে যে বাজারে কোনো কিছুরই ঘাটতি থাকবে না। আর যেখানে ঘাটতি নেই, সেখানে সম্পদ বণ্টনের জন্য কোনো কাগজের মুদ্রার প্রয়োজন পড়বে না।

মাস্ক বিশ্বাস করেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘মানুষ হওয়া ছাড়া এমন কিছুই থাকবে না যা এআই মানুষের চেয়ে ভালো করতে পারবে না।’

প্রথাগত মুদ্রা উঠে গেলে সমাজ কীভাবে চলবে, তা নিয়েও কিছু চমকপ্রদ ধারণা শেয়ার করেছেন মাস্ক। 

তিনি ‘ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম’-এর ধারণাকে ছাড়িয়ে ‘ইউনিভার্সাল হাই ইনকাম’-এর কথা বলেছেন। অর্থাৎ, মানুষ কাজ না করলেও রাষ্ট্র তাকে উচ্চ মাত্রার আর্থিক বা বৈষয়িক সুবিধা প্রদান করবে, যা দিয়ে সব মৌলিক চাহিদা অনায়াসে মিটে যাবে।

মাস্কের দাবি, এআই-এর কারণে উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায় বাজারে জিনিসের দাম ক্রমাগত কমতে থাকবে। ফলে ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতি নয়, বরং মূল্যহ্রাস হবে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

তবে বাস্তব মূল্য বা শক্তির গুরুত্ব সবসময় থাকবে, যা পরোক্ষভাবে বিটকয়েনের মতো ডিজিটাল সম্পদকে টিকিয়ে রাখতে পারে বলেও মনে করেন মাস্ক। 

এরআগে মাস্কের বন্ধু থেকে শত্রুতে পরিণত হওয়া ওপেনএআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও স্যাম অল্টম্যানও দাবি করেছেন যে, মানবজাতি এমন এক যুগে প্রবেশ করছে যেখানে এআই সিস্টেমগুলো ক্রমশ আরও বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে। 

তিনি বলেছেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই এমন পর্যায়ে রয়েছি– যেখানে এআই মডেলগুলো মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান’।

অন্যদিকে ইলন মাস্কের এই ‘টাকা ছাড়া পৃথিবী’ স্বপ্নকে বিশ্লেষক এবং অর্থনীতিবিদরা পুরোপুরি মেনে নিতে পারেনি। 

বিশ্লেষকদের মতে, রোবট ও এআই সব উৎপাদন করলেও সেই প্রযুক্তির মালিকানা কিন্তু ইলন মাস্কের মতো গুটিকয়েক ধনকুবের বা বড় কর্পোরেশনের হাতেই থাকবে। ফলে সম্পদের চরম বৈষম্য তৈরি হতে পারে, যা টাকা ছাড়া মেটানো অসম্ভব।

অর্থনীতিবিদদের অনেকেই মনে করেন, মাত্র ১০ বছরের মধ্যে (২০৩৬ সালে) পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক কাঠামো এভাবে বদলে যাওয়া সম্ভব নয় এবং মাস্কের এই সময়সীমা অতিরিক্ত মাত্রায় আশাবাদী।

সূত্র: এনডিটিভি, ফোবর্স

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর