বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত বাণিজ্যিক নৌপথ ‘বাব এল-মান্দেব’ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ বা অবরোধ করার দাবি নাকচ করে দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। বরং শুধুমাত্র সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের একটি নির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক অবরোধ কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি।
লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে চলমান উত্তেজনা ও বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের মুখে হুতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ব্যাখ্যা এলো।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে ইয়েমেনের হুতি মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুল সালাম বলেন, ‘কিছু লোক যেমনটা প্রচার করে, বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাদের এই সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ আন্তর্জাতিক সাধারণ বাণিজ্যের জন্য নয়, এটি শুধুমাত্র সৌদি আরবগামী, সৌদি বন্দর ব্যবহারকারী বা সৌদি মালিকানাধীন জাহাজগুলোর ওপর কার্যকর করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইয়েমেনের রাজধানী সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলার জের ধরে হুতিরা সৌদি আরবের আবহাও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে এবং পরবর্তীতে রিয়াদের ওপর এই নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়।
গত বুধবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার—‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’র ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়।
হুতিদের এই হামলার ফলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি বন্ধ হওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকটের কারণে সৌদি আরব তাদের তেল রফতানির একটি বড় অংশ লোহিত সাগরের বিকল্প রুট দিয়ে পাঠাচ্ছিল। ফলে, হুতিদের এই নতুন নিষেধাজ্ঞা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র-বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকি তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বৈধ ও বাধাহীন নৌ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে হুতিদের এই নৌ অবরোধ ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।
অন্যদিকে সৌদি আরব হুতিদের এই অবরোধের দাবিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং জলদস্যুতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই তাদের বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজ সুরক্ষায় বাব এল-মান্দেব ও লোহিত সাগরীয় রুটে বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




