ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিলেই কেবল সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই শর্তের কথা প্রকাশ করেন।
পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘চুক্তি কেবল বেসামরিক কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের জন্য। বর্তমানে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আরও কয়েকটি দেশের এ ধরনের সুযোগ রয়েছে। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করবে সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার ওপর। এই চুক্তির মাধ্যমে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’।
তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তির আওতায় সৌদি আরব কোনোভাবেই পরমাণু পদার্থ বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না। এটি কেবল অসামরিক বা বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হবে।’
এরআগে সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার সুবিধা দিয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন বলা হয়, এই চুক্তিটি মূলত ‘১২৩ চুক্তি’ নামে পরিচিত, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরেই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে ইরানের সাথে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে কিছুটা সময় নিচ্ছিলেন ট্রাম্প। কারণ চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য বেশিরভাগ দেশ সাধারণত অন্য দেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হলে সৌদি আরব বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শান্তিপূর্ণ বেসামরিক কাজের জন্য নিজেদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রযুক্তিগত আইনি অধিকার পাবে। এটি মূলত মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে সৌদিতে পারমাণবিক কাঁচামাল ও বেসামরিক প্রযুক্তি স্থানান্তরের একটি আইনি কাঠামো মাত্র।
এদিকে ট্রাম্পের এই নতুন শর্তের বিষয়ে সৌদি আরব এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রিয়াদের দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থান হলো— একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট রূপরেখা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না।
অন্যদিকে ট্রাম্পের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেছেন, ‘সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও সক্রিয় উদ্যোগে স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মূল লক্ষ্যই ছিল ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর কয়েক দশকের কূটনৈতিক ও ঐতিহাসিক দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হোয়াইট হাউজে এই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম দফায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরবর্তীতে মরক্কো এবং সুদান-ও এই প্রক্রিয়ায় যোগ দেয়। তবে সৌদি আরবসহ অনান্য আরবদেশগুলো এখনো এতে যোগ দিতে অস্বাকৃতি জানিয়েছে। তাদের দাবি, এতে ফিলিস্তিন সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান বা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে সৌদি আরবকে এই চুক্তির আওতায় এনে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক লক্ষ্য, যা এখন পারমাণবিক চুক্তির শর্তের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




