মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের চেষ্টা করবেন মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের চেষ্টা করবেন মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে যোগ দিতে দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে তিনি নগর কর্তৃপক্ষের আইন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, গাজায় সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখোমুখি হওয়া নেতানিয়াহুকে বিচারের আওতায় আনা উচিত। খবর আল-জাজিরার।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে বহু মানুষ একই মত পোষণ করেন।

ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে সরব ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা মামদানি মেয়র নির্বাচনি প্রচারণার সময়ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেবেন। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আইনি সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, আইন আমাকে নিউইয়র্ক সিটিতে যা করার অনুমতি দেয়, আমরা সেটাই করব। তবে এ উদ্দেশ্যে নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।

মামদানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু মার্কিন রেডিও উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, মামদানি গোপনে আমেরিকাকে ঘৃণা করেন।

অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, গ্রেফতারের হুমকি সত্ত্বেও আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে যাবেন।

মেয়র নির্বাচনি প্রচারণার সময় মামদানি ইসলামবিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণেরও শিকার হন। এক পর্যায়ে রেডিও উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গ তাকে ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করেন। পরে এ মন্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমা চান।

গত মে মাসে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭৫ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেন। 

তিন বছর আগে এ হার ছিল ৪৫ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক ভোটার মনে করেন, তাদের দল ইসরায়েলের প্রতি অতিরিক্ত সমর্থন দেখাচ্ছে।

যদিও এ পরিবর্তন এখনো দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি, তবু অনেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন। 

সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রায় অর্ধেকই ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর