আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর করেছিলেন, তার কোনো মূল্যই নেই! এমনটাই দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু হয়েছিল। তারপর তাকে সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত মোজতবা প্রকাশ্যে আসেননি।
শনিবারও (১৮ জুলাই) মার্কিন বাহিনীকে বার্তা দিয়েছেন অন্তরাল থেকেই। জানিয়েছেন, ইরানের সেনারা তাদের ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেবে।
মোজতবার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে। তিনি বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে একাধিকবার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খোদ ট্রাম্প।
আমেরিকার সঙ্গে ইরানের চলতি সংঘর্ষ নিয়ে শনিবার রাতে মোজতবা খামেনি একটি বিবৃতি জারি করেন। তাতে বলেছেন, ‘গত মাসে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট যে সমঝোতায় স্বাক্ষর করলেন, তাতে ট্রাম্পের সইটি সম্পূর্ণ মূল্যহীন। তার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই। কারণ, ওই সমঝোতার শর্তগুলি আমেরিকা বারবার লঙ্ঘন করে চলেছে।’
এর আগে এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইরান জানিয়ে দেয়, সমঝোতায় স্বাক্ষরকৃত দায়বদ্ধতাগুলি তারা আপাতত স্থগিত রাখছে।
কারণ, শুধু চলতি মাসেই আমেরিকার হামলায় ইরানের ৫০ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক। মোজতবার লিখিত বিবৃতি আসে এর পরেই।
আমেরিকার বাহিনীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মোজতবা আরও বলেছেন, ‘আমেরিকান শত্রুরা এই সংঘর্ষকে আরও তীব্র করে তোলার চেষ্টা করছে। এর জন্য ওদের আরও কঠিন মূল্য দিতে হবে। আরও বেশি অপমানিত হতে হবে। ওদের জেনে রাখা দরকার, ইরানের বাহিনী ওদের এমন শিক্ষা দেবে, যা ওরা কখনও ভুলতে পারবে না।’
সমঝোতার শর্তগুলি লঙ্ঘন করে আমেরিকা তাদের ‘আসল রূপ’ দেখিয়ে দিয়েছে, দাবি মোজতবার। তার কথায়, ‘জবরদস্তি, সর্বগ্রাসী আগ্রাসন, বর্বরতাই হলো মার্কিন মতাদর্শের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
উল্লেখ্য, আমেরিকার আগ্রাসনের প্রতিবাদে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
শনিবার তেমনই একটি হামলায় জর্ডানে আমেরিকার দু’জন সেনার মৃত্যু হয়েছে। একজন এখনও নিখোঁজ। জর্ডান ছাড়াও বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে ইরান।
তার জবাবে মার্কিন বাহিনী রোববার (১৯ জুলাই) ভোর থেকে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরানে। দেশটির দক্ষিণ প্রান্তে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়।
-এমএমএস




