সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থল ও সামুদ্রিক স্থাপনায় কঠোর হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি অভিযোগ করেছে, শুক্রবার সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ইরানের তেহরান থেকে আসা একটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বিমানকে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
শুক্রবার একটি ভিডিও বিবৃতিতে হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘আমরা সৌদিকে আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টা বা আমাদের দেশকে লক্ষ্য করে যেকোনো আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি না করার জন্য সতর্ক করছি। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়া হবে তাদের বিমানবন্দর এবং স্থল ও সমুদ্রে থাকা গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ লক্ষ্য করে।’
তিনি জানান, ২০০ জনেরও বেশি আটকে পড়া, আহত ও অসুস্থ ইয়েমেনি নাগরিককে বহনকারী একটি ইরানি বেসামরিক বিমানের অবতরণ ঠেকাতে রাজধানী সানার আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্ট করে সৌদি যুদ্ধবিমান। তবে হুথি যোদ্ধারা সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
এর আগে হুথি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, বিমানটি সফলভাবে অবতরণ করেছে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণকারী হুথি প্রতিনিধিদলকে নিয়ে তেহরানের দিকে ফিরে গেছে।
হুথি মখপাত্র আরও বলেন, যেকোনো সম্ভাব্য পরিণতি সত্ত্বেও সানা ও তেহরানের মধ্যে বিমান চলাচল অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের এই হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালিকি বলেছেন, হুথিরা ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের ওপর যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও নির্যাতন চালিয়েছে, তা থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতেই সৌদির বিরুদ্ধে এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে।
তিনি আরও সতর্ক করেছেন, সৌদি আরবের নাগরিক, বাসিন্দা কিংবা জাতীয় সম্পদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা অথবা ইয়েমেনের অখণ্ডতা ভাঙার চেষ্টা করা হলে ‘নজিরবিহীন শক্তি’ প্রয়োগ করে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে জাতিসংঘ-ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সরাসরি সংঘাত অনেকটাই বন্ধ ছিল এবং একটি স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে আলোচনা চলছিল। তবে ইরানের বিমান অবতরণকে কেন্দ্র করে এই নতুন উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আবার নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




