সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সৌদি প্রতিনিধিদের সুরা আল ইমরানের আয়াত শুনিয়ে যে বার্তা দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

সৌদি প্রতিনিধিদের সুরা আল ইমরানের আয়াত শুনিয়ে যে বার্তা দিল ইরান

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বিদেশি প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানানোর সময় কোরআনের ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তেলাওয়াতের ব্যবস্থা করেছে ইরান কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে সৌদি প্রতিনিধিদলের জন্য বিশেষভাবে নির্বাচিত সুরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত পাঠ করা হয়, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা জানান সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খেরেজির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এসময় সুরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, যেখানে ইসলামের ইতিহাসের বদর যুদ্ধে আল্লাহর পথে যুদ্ধকারী মুমিনদের বিজয় এবং প্রতিপক্ষের পরাজয়ের শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে।

সুরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে সেই দু’দল সৈন্যের মধ্যে যারা পরস্পর প্রতিদ্বন্দীরূপে দাঁড়িয়েছিল (বদর প্রান্তরে)। একদল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল এবং অপরদল ছিল কাফির, কাফিররা মুসলিমদেরকে প্রকাশ্য চোখে দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে স্বীয় সাহায্যের দ্বারা শক্তিশালী করে থাকেন, নিশ্চয়ই এতে দৃষ্টিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের সামনে এই আয়াত পড়ার মাধ্যমে ইরান নিজেদের ‘আল্লাহর পথে’ থাকা দল হিসেবে এবং তাদের শত্রুদের ‘কাফিরদের পক্ষ’ হিসেবে ইঙ্গিত করেছে।

যদিও এই বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই ধর্মীয় বার্তাটি একটি বড় রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবেই চর্চিত হচ্ছে।

এদিকে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গনি বারাদারের নেতৃত্বাধীন তালেবান প্রতিনিধিরা খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা জানানোর সময় সুরা আল ফাতাহ'র প্রথম আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। 

এই আয়াতে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ) একটি পরিপূর্ণ বিজয় দান করেছি”। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২১ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে হঠিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলকে তালেবান একটি ঐতিহাসিক এবং ঐশ্বরিক ‘বিজয়’ হিসেবে দেখে। ইরানি আয়োজকদের পক্ষ থেকে এই আয়াতটি পাঠ করার মাধ্যমে তালেবানের সেই বিজয়কে এক ধরনের ধর্মীয় ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। 

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর