বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

খামেনির শেষ বিদায়ে কোন কোন দেশের নেতারা যোগ দিচ্ছেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

খামেনির শেষ বিদায়ে কোন কোন দেশের নেতারা যোগ দিচ্ছেন?

দীর্ঘ চার মাস পর মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনব্যাপী শেষকৃত্য ও দাফন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে আজ। এতে ১০০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, পার্লামেন্টের স্পিকার এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরআইবি।

আইআরআইবি-এর তথ্যমতে, শুক্রবার তেহরানে এই শোকানুষ্ঠান শুরু হয়েছে এবং সাত দিন ধরে চলবে। ইরান ছাড়াও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুক্রবারের অনুষ্ঠানটিতেই সর্বাধিক বিদেশি নেতা অংশগ্রহণ করবেন।

ইতোমধ্যেই তেহরানের ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ রাখা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার সেখানেই খামেনির প্রথম রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহর ঘুরে আগামী ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে হযরত ইমাম রেজা (আ.) এর মাজারে তাকে সমাহিত করা হবে।

কোন কোন দেশ রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানদের পাঠাচ্ছে? 

 

 

পাকিস্তান: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শেহবাজ শরীফের সঙ্গে রয়েছেন দেশটির জাতীয় সংসদের স্পিকার আয়াজ সাদিক, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার, পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি, পিপিপি মহাসচিব নায়ের বুখারি এবং সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ।

তাজিকিস্তান: তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমনও জানাজায় যোগ দেবেন।

আর্মেনিয়া: আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এই স্মরণ অনুষ্ঠানে তার দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

জর্জিয়া: দেশটির প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলিও খামেনির এই স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটি সরকার।

যেসব দেশ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও নেতাদের পাঠাচ্ছে?

তুরস্ক: তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেভদেত ইলমাজ খামেনির জানাজায় যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছে আঙ্কারা।

ভারত: ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা শুক্রবার ইরান সফর করবেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসনাইন হলেন ভারতে সরকারি পদে অধিষ্ঠিত জ্যেষ্ঠতম শিয়া নেতা। এছাড়াও প্রতিনিধিদলে বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ এবং কাশ্মীরের সাবেক মূখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও রয়েছেন।

চীন: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জ্যেষ্ঠ চীনা আইনপ্রণেতা হে ওয়েই তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় যোগ দেবেন। তিনি চীনের সংসদ ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান।

রাশিয়া: রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি ও রুশ নিরাপত্তা পরিষদের উপ-সভাপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ শুক্রবারের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে বৃহস্পতিবার ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে।

আফগানিস্তান: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি রাষ্ট্রীয় জানাজায় যোগ দিতে বৃহস্পতিবার তেহরানে পৌঁছেছেন। আফগান গণমাধ্যম জানিয়েছে, অর্থনৈতিক বিষয়ক প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদারও তালেবান প্রতিনিধি দলে রয়েছেন। 

বাংলাদেশ: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ তেহরানে খামেনি রাষ্ট্রীয় জানাজায় যোগ দেবেন। এছাড়াও বিরোধীদল জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিরাও তেহরান পৌঁছেছেন।  

প্রসঙ্গত, ৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিন নিহত হন। ওই হামলার পরই মধ্যপ্রাচ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়।

সাবেক এই সর্বোচ্চ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। তাদের তথ্যমতে, রাজধানী তেহরানে ৪ ও ৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বহু-দিনব্যাপী এই গণ বিদায় অনুষ্ঠানে রেকর্ড সংখ্যক— প্রায় ২ কোটি পর্যন্ত মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

৪ জুলাই তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে আলি খামেনির জানাজা কর্মসূচি। এরপর ৭ জুলাই কুমে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। সবশেষে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র নগরী ও খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে জানাজায় প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হবে বলে আশ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এটি হবে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জানাজা। 

সূত্র: আলজাজিরা

এমএইচআর

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর