বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ঢাকা

রাতেই কঠিন হামলার হুমকি

ভেনিজুয়েলার মতো ইরানে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেব: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ভেনিজুয়েলার মতো ইরানে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেব: ট্রাম্প

মার্কিন সামরিক বাহিনী আজ রাতেই ইরানের ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী ও কঠিন আঘাত হানতে যাচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ভেনিজুয়েলার তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ যেভাবে মার্কিন প্রশাসন নিজেদের হাতে নিয়েছে, ইরানের ক্ষেত্রেও ঠিক একই রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আজ রাতে ইরানের ওপর খুব কঠিন আঘাত হানবে (যাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার, বিমান-বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সব ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সেইসাথে তাদের অধিকাংশ আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও উধাও হয়ে গেছে!)।’


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো এক সময়ে ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল করবে, যা ইরানের জন্য একটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন এবং দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রফতানি পরিচালনা করে।

ট্রাম্প বলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে আমরা খার্গ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল অবকাঠামোগত স্থানগুলো দখল করব এবং তাদের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেব, ঠিক যেমনটা আমরা ভেনিজুয়েলার ক্ষেত্রে করেছি, যা ভেনিজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই চমৎকারভাবে কাজ করছে।’

ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও সরাসরি হামলা পাল্টা হামলা চলছে। 


বিজ্ঞাপন


সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার সাইটে যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর পরপরই ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবার নিশ্চিত করেছে, তারা ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলো।

ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অংশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং পশ্চিম তেহরান, ফার্স প্রদেশ, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কিশ, মিনাব এবং মধ্য ইসফাহানের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনসহ প্রায় ১৮টি ভিন্ন ভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। 

বৃহস্পতিবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, আল-আজরাক বিমানঘাঁটি ও এর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলায় বেশ কয়েকটি স্থাপনা ও এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ সহ বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। 

বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘আগ্রাসনকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক অভিযান’ বলে অভিহিত করে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করবে ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত জবাব দিয়ে যাবে ইরান। 

এছাড়াও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের এই এলিট বাহিনীটি, যা আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের জন্য বড় ধাক্কা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি এবং পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে এপ্রিল মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। 

ইরান সরকারও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, একের পর এক হামলার কারণে এই যুদ্ধবিরতি এখন সম্পূর্ণ ‘অর্থহীন’ হয়ে পড়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা, এনডিটিভি

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর