যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, আল-আজরাক বিমানঘাঁটি ও এর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলায় বেশ কয়েকটি স্থাপনা ও এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ সহ বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘আগ্রাসনকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক অভিযান’ বলে অভিহিত করে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করবে ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত জবাব দিয়ে যাবে ইরান।
এদিকে জর্ডান ছাড়াও কুয়েতের দুটি বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের একটি মার্কিন ঘাঁটিসহ প্রায় ১৮টি ভিন্ন ভিন্ন মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম নৌবহরের প্রধান দফতরে ভয়াবহ হামলা চালায় আইআরজিসি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের অন্যায্য ও অব্যাহত আগ্রাসনের জবাবে তারা অতিরিক্ত আত্মরক্ষামূলক হামলা শুরু করেছে। তবে জর্ডানে কমান্ড সেন্টারে হামলা ও যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সেন্টকম।
ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মাঝরাতে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় বান্দর আব্বাস, কেশম ও মিনাব শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশাপাশি কারগান ও সিরিক এলাকায় শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার সাইটে যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর পরপরই আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।
বুধবার হামলা ও পাল্টা হামলার পর লড়াই থামলেও বৃহস্পতিবার মাঝরাতে আবারও হামলা পাল্টা হামলা শুরু হয়। এতে করে গত এপ্রিলে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




