বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ফের পতন, কমতে পারে দেশেও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:১৪ এএম

শেয়ার করুন:

GOLD-NEWS-DMAIL
স্বর্ণের বার। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় স্বর্ণের দাম ছয় মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিনের শুরুতে বিশ্ববাজারে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৬৩ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমে আসে। গত বছরের ২১ নভেম্বরের পর এটি সর্বনিম্ন দাম।


বিজ্ঞাপন


একই সময়ে আগস্ট মাসে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারের দামও কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৬ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। এতে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শান্তি চুক্তি না হলে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার রাতে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


তেলের দাম বাড়ার ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, সুদের হার দীর্ঘ সময় অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা।

যদিও স্বর্ণকে সাধারণত অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতির সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ তখন তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হারে বেড়েছে। এতে ফেডের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা আরও কমেছে।

বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন। এই প্রতিবেদন থেকে ফেডের পরবর্তী মুদ্রানীতির বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও স্বর্ণবাজারে প্রভাব ফেলছে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যমান খনিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে দেশটির স্বর্ণ উৎপাদন ২০২৫ সালের ৫৯ দশমিক ৩৩ টন থেকে ২০২৬ সালে প্রায় ৬২ মেট্রিক টনে উন্নীত হতে পারে।

অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫৫ দশমিক ৬ ডলারে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২২৫ দশমিক ২৫ ডলারে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমতে থাকায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর