ওমানের উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তিনজন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে, বুধবার ওমানের সোহার বন্দরের প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে হরমুজ প্রণালির কাছে ‘সেত্তেবেলো’ নামের তেলবাহী ট্যাংকারটির ইঞ্জিন রুমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন লেগে যায়। পালাউ-পতাকাবাহী জাহাজটিতে ২৮ জন নাবিক ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৪ জন ভারতীয় নাগরিক।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
নয়াদিল্লি আরও জানিয়েছে, মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে ওমান কর্তৃপক্ষের সাথে যৌথভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে অ্যামব্রে এই হামলাটিকে ইরানি জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে চলমান মার্কিন নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে সম্ভাব্য এই হামলা হয়ে থকতে পারে। কারণ এই ধরণের অভিযানে জাহাজের পেছনে আঘাত হানার আগে নাবিকদের অগ্রভাগে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই জাহাজের ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছে।
সেত্তেবেলোর ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই হামলার ঠিক দুই দিন আগে ৮ জুন ‘এমটি মারিভেক্স’ নামের আরেকটি পালাউ-পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ মার্কিন অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে মার্কিন নৌবাহিনী সেটির ইঞ্জিন রুমে সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে জাহাজটিকে অচল করে দেয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৮ জুনের থেকে মার্কিন বাহিনী নিয়ম অমান্যকারী সাতটি জাহাজকে অচল করে দিয়েছে এবং আরও ১৩০টিরও বেশি জাহাজের পথ পরিবর্তন করে দিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে এমন সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও সরাসরি হামলা পাল্টা হামলা চলছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার সাইটে যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর পরপরই ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে এর প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। এমনকি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ওমানের উপকূলে একাধিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর




