ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে এখন আলোচিত নাম গুসকরা শহরের কলিতা মাজি। এই সাহসী নারী জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম, আর্থিক অনটন এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে কাজের বুয়া থেকে মন্ত্রী হয়েছেন।
এমনকি নমিনেশনের আগের দিনও ২ বাসায় কাজ করেছেন। তার এই যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, এটি বাংলার গ্রামীণ সমাজে নারীর ক্ষমতায়নেরও এক অনন্য উদাহরণ।
বিজ্ঞাপন
পূর্ব বর্ধমান জেলার সাধারণ এক দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা কলিতা মাঝির জীবন কখনও সহজ ছিল না। সংসারের আর্থিক টানাপোড়েনে তাকে অল্প বয়স থেকেই অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতে হয়।
তার স্বামী একজন কলের মিস্ত্রি। একজনের উপার্জনে সংসার টেনে নেওয়া কঠিন বলে তাকে গৃহকর্মীর কাজ করতে হয়। এতগুলো বছর ধরে একমাত্র ছেলেকে মানুষ করতে খেটেছেন দিনরাত।
তিনি নিজে কষ্ট করেছেন, ছেলেটা যেন সেই কষ্টের জীবন না পায়, সেই চেষ্টা করে গেছেন। এ বছরই তার পুত্র পার্থ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। স্থানীয় মানুষদের কাছে তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, বিশ্বস্ত এবং সংগ্রামী এক নারী।
দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকার অভিজ্ঞতা তাকে জনজীবনের সমস্যাগুলি কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দেয়। সেখান থেকেই রাজনীতির প্রতি তার আগ্রহ জন্মায়।
বিজ্ঞাপন
ধীরে ধীরে তিনি জনসংযোগ ও সংগঠনের কাজে যুক্ত হন এবং তৃণমূল স্তরে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন। প্রায় এক দশক ধরে সক্রিয় জনজীবনে কাজ করার পর তিনি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কলিতা মাঝি আউশগ্রাম আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। সেবার ১১ হাজার ৮১৫ ভোটে হেরেছিলেন। কিন্তু সেই পরাজয় তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেন এই অদম্য নারী। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবারও আউশগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাড়ে ১২ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
তার এই বিজয়কে অনেকেই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম চমক হিসেবে দেখেছেন। বিধায়ক হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কলিতা মাঝি রাজ্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পান।
১ জুন তিনি লোকভবনে রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীর সামনে প্রতিমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন। গৃহকর্মী থেকে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার এই উত্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার মন্ত্রিত্ব প্রাপ্তি তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কলিতা মাঝি সম্প্রতি এক গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমি গরিব পরিবারের একজন বধূ। তাই গরিব মানুষের কষ্ট বুঝি। বিধায়ক হয়েছি, এখন মন্ত্রীও হয়েছি, কিন্তু আমি সাধারণ মানুষ হিসেবেই থাকতে চাই। আতিশয্য চাই না। আউশগ্রামের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’
-এমএমএস




