বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ঢাকা

আরও নিঃসঙ্গ মমতা, পাশে মাত্র ৮ জন বিধায়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

আরও নিঃসঙ্গ মমতা, পাশে মাত্র ৮ জন বিধায়ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির ২৮ দিন পর প্রথমবার রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সংবিধান হাতে নিয়ে বিজেপিকে হারানোর পণ করলেন ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূলনেত্রী মমতা পাশে পেলেন দলের মাত্র ৮ জন বিধায়ক এবং ৬ জন এমপিকে! 


বিজ্ঞাপন


দলের বহিষ্কৃত বিধায়ক, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার ‘নেতৃত্বে’ তৃণমূল পরিষদীয় দলে ভাঙনের জল্পনার মধ্যেই মমতার কর্মসূচিতে জোড়াফুলের জনপ্রতিনিধিদের এই ‘গণঅনুপস্থিতি’তে বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

মঙ্গলবার ধর্মতলায় মমতার ধর্নায় তৃণমূল বিধায়দের মধ্যে ছিলেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ (ববি) হাকিম, মদন মিত্র, অশোক দেব, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীমা পাত্র এবং কুণাল ঘোষ। 

দুই লোকসভা এমপি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মালা রায় এবং চার রাজ্যসভা এমপি ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সামিরুল ইসলাম এবং নাদিমুল হক ছিলেন মঙ্গলবারের ধর্না কর্মসূচিতে। 

ফলে শুধু পরিষদীয় দল নয়, শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের সংসদীয় দল অটুট থাকবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। 


বিজ্ঞাপন


তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বহিষ্কৃত ঋতব্রত মঙ্গলবার ঘোষণা করে দিয়েছেন, বুধবার হাওড়া গ্রামীণ জেলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে সেখানকার তৃণমূল বিধায়কেরা হাজির থাকবেন!

গত শনিবার সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেই ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধর্নার কর্মসূচির ঘোষণা করেছিলেন মমতা। 

কিন্তু কলকাতা পুলিশের অনুমতি মিলেনি। পরিবর্তে লালবাজারের তরফে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ‘মঞ্চ না বেঁধে দু’ঘণ্টার জন্য ধর্না’র বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলকে। 

পুলিশের সঙ্গে কথাবার্তার পর বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ ঘোষণা করেছিলেন, ওয়াই চ্যানেলে মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত তৃণমূলের কর্মসূচি হবে। সেই অনুসারেই পালিত হয় কর্মসূচি।

মঙ্গলবার দুপুর ২টা নাগাদ মমতা কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমেই পৌঁছে যান রেড রোডে। সেখানে বিআর অম্বেডকরের মূর্তিতে মালা দিয়ে ওয়াই চ্যানেলের উদ্দেশে রওনা হন। 

ধর্নাস্থল থেকে অভিষেকের উপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ওটা গলির মধ্যে ছিল। হেলমেট না-দিলে পাথরটা ওর মাথায় লাগত। তার পরই হাসপাতালের ‘অসহযোগিতা’ নিয়ে সরব হন মমতা। 

তার দাবি, যখন সিরিয়াস অবস্থায় রোগী নিয়ে গেলাম তখন সিইও-র থেকে অনুমতি নেওয়ার কথা বলছে। পুলিশ নার্সিং হোমকে থ্রেট করছে। পরে ট্রমা কেয়ারে ভর্তি করল। তখন হাসপাতালের সিইও আমার কাছে এলেন। শোভন চট্টোপাধ্যায়ও ছিল আমার সঙ্গে। আমাদের বললেন, মাফ করবেন। আর চাপ নিতে পারছি না। ভয় দেখানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিজেপি বাদে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে। তবে বিজেপির যারা বলেছেন, তাদের পাশেও ছিলাম... জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হটাকে যায়েঙ্গে (যদি বেঁচে থাকি বিজেপি-কে সরিয়েই যাব)।

রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধর্নার অনুমতি না-পাওয়ায় পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তৃণমূলনেত্রী বলেন, আমাদের এখানে ধর্নায় মাইকের অনুমতি দেওয়া হয়নি। হ্যান্ড মাইক নিয়ে বলতে হচ্ছে। এভাবে আমাকে আটকাতে পারবে না। যেখানে পারব বসে পড়ব। 

সংবিধান নিয়ে গিয়েছিলাম। মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে মালা দিয়ে শপথ নিলাম— এই অত্যাচার যত দিন চলছে, তত দিন মোকাবিলা করব। করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে (করব নয়তো মরব)।

মমতার অভিযোগ, আমাকে মারা হয়েছে। ভোট লুট হয়েছে। পুলিশের উদ্দেশ্যে তার বার্তা, যারা আসছেন, তাদের ঢুকতে দিন। না হলে লালবাজার ঘেরাও হবে। নবান্ন ঘেরাও হবে। সব থানা ঘেরাও হবে।

মমতা বলেন, আমি পুলিশকে দোষ দিচ্ছি না। ওদের কোনও ভুল নেই। আমিও প্রশাসনে ছিলাম। ওরা চেয়ারের কথা শোনে। চেয়ার যা বলে তা করে।

মমতার অভিযোগ, দলীয় বিধায়কদের বাড়ি থেকে বার হতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ গিয়ে তৃণমূল ছাড়ার কথা বলছে। নতুন তৃণমূল তৈরি করতে বলছে। তার পরেই মমতার প্রশ্ন, কারা নতুন তৃণমূল তৈরি করবেন? যারা প্রথম থেকে দলের সঙ্গে আছেন তারা না কি যারা দলের প্রতীকে জিতেছেন তারা?

--এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর