ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বন্দর আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলার জবাবে কুয়েতে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, বন্দর আব্বাসের বিমানবন্দরের কাছে একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় ভোর ভোর ৪:৫০ মিনিটে কুয়েতের ওই মার্কিন ঘাঁটিতে এই প্রতিশোধমূলক হামলাটি চালানো হয়।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানি বাহিনীটি আরও বলেছে, ‘এই প্রতিশোধমূলক হামলাটি শত্রুর জন্য একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা, যাতে শত্রুরা বুঝতে পারে যে তাদের যেকোনো আগ্রাসন আর বিনা জবাবে থাকবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ইরানের পরবর্তী জবাব আরও বেশি বিধ্বংসী ও সুনির্দিষ্ট হবে।
এদিকে আইআরজিসি হামলার দাবির বিষয়ে কুয়েত বা মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এরআগে তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার দেশটির কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ‘হুমকি তৈরি করেছিল’ এমন চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সময়ে বন্দর আব্বাসে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, যেখান থেকে আরেকটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, বুধবার রাতে হরমুজ প্রণালিতে চলতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল আইআরজিসি। এই ড্রোন নিক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল জাহাজটিকে পিছু হটতে বাধ্য করা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন ট্যাংকার জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে আরও ৪টি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছিল, তবে সেগুলোকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক ফায়ার করার পর পিছু হটেছিল জাহাজগুলো।
এর আগে গত সোমবার দক্ষিণ ইরানে হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে চাওয়া নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হামলা চালিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত ছাড়াও আরও একটি মার্কিন আরকিউ-৪ ড্রোন এবং একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ওপরও গুলি চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।
প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল এক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ থামলেও স্থায়ী শান্তি চুক্তির আলোচনা প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি। চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই দ্বিতীয়বার ইরানের মার্কিন হামলায় ফলে নতুন করে বড় যুদ্ধে জড়াতে পারে বলে জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ, আনাদোলু
এমএইআর




