মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ঢাকা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, ফের কি যুদ্ধে জড়াচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ০৮:১০ এএম

শেয়ার করুন:

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা, ফের কি যুদ্ধে জড়াচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মধ্যেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। শান্তি আলোচনার মধ্যে দক্ষিণ ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের নৌযান। হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রাখার অভিযোগ তুলে এই হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ বলছে ওয়াশিংটন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে- তাহলে কি নতুন করে বড় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র?

ইরানের বন্দর আব্বাসে একের পর এক বিস্ফোরণের পর থেকেই সন্দেহটা জোরালো হতে শুরু করে। তার কয়েক ঘণ্টা মধ্যে সোমবার রাতে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের বোটে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে বিমান হামলা চালিয়ে দক্ষিণ ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয় তারা। দুটি ঘটনার দায় স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রাখার প্রস্তুতির অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এমনকী প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির খসড়াতেও বিষয়টা রাখা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


৩০ দিনের মধ্যে সমস্ত মাইন তুলে ফেলতে হবে জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এ দিন হরমুজ ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ড কর্পস ফের মাইন পাতার চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেছে আমেরিকান সেনা। ঘটনা নজরে আসতেই শুরু হয় বিমান হামলা।

পাল্টা হামলা চালায় ইরানও। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বিমান হামলার সময় হরমুজ প্রণালির পাশে দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছিল ইরানি সেনা। সঙ্গে সঙ্গে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল দিয়ে সেই ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলার পরে আমেরিকার এক শীর্ষ কর্তা ‘ফক্স নিউজ’-কে বলেন, ‘ইরানের দু’টি বোট এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

আত্মরক্ষার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা এই হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কম্যান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স। তিনি বলেন, ‘ইরানের সেনা হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতার চেষ্টা করছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বের জন্যই বিপজ্জনক। তাই আত্মরক্ষার্থেই হামলা চালানো হয়।


বিজ্ঞাপন


Iran-usa
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস নৌবাহিনী ২০২৩ সালে আবু মুসা দ্বীপে একটি মহড়ার সময় স্পিডবোট মোতায়েন করছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা পুরোপুরি সংযম বজায় রেখে কাজ করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। হকিন্স বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সেন্টকম সংযম বজায় রেখে নিজেদের বাহিনীকে রক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’

এই হামলায় যুদ্ধবিরতিতে কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্তারা। এ দিন বন্দর আব্বাস থেকেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। এ ছাড়া ওমান উপসাগরের কাছে সিরিক ও জাস্ক শহরেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি। তবে কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, কেউ হামলা চালিয়েছিল কি না, সেই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি।

যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ফলে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর