সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ঢাকা

বাংলাদেশি সন্দেহে আটকদের ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রাখবে ভারত!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশি সন্দেহে আটকদের ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রাখবে ভারত!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যাচ্ছে।

এবার তারা বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


ওই সব ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ সন্দেহভাজনদের আটক করে ৩০ দিন রাখা যাবে। অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটকরা তো বটেই, যারা এর আগে ধরা পড়েছিলেন এবং বন্দি ছিলেন, যাদের দেশের বাইরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, তাদেরও সেখানে রাখা যাবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর নির্দেশিকা আগেই জারি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি নবান্ন (পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয়) থেকে  জানান, সাবেক তৃণমূল সরকার কেন্দ্রের সেই নির্দেশ পালন করেনি। 

তার সরকার (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে ওই সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা হয়েছে। সি‌এএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অন্তর্ভুক্ত নন যারা, এবার তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। 

সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে। বিএসএফ তাদের সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করবে। শুভেন্দুর ঘোষণার পর রাজ্য সরকারের তরফেও নির্দেশিকা জারি করে দেওয়া হল।


বিজ্ঞাপন


নবান্নের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের যারা এ রাজ্যে বেআইনি ভাবে বসবাস করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন, তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। জেলাগুলিতে তার জন্য হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং এ রাজ্যের জেল থেকে ছাড়া পাওয়া বিদেশি বন্দিদের রাখার জন্য এই সব সেন্টার ব্যবহার করা হবে। 

সেন্টার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। নবান্ন থেকে এই মর্মে নির্দেশিকা গিয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি, প্রত্যেক জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের কাছে। কলকাতা-সহ প্রত্যেক পুলিশ কমিশনারকেও এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফরেনার্স ডিভিশনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে একটি আট পাতার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। 

তাতে অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির কথাও বলা হয়েছিল। কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক নন বলে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী সন্দেহ করলে তাকে গ্রেফতার করা যাবে। 

৩০ দিনের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ আটকে রাখা যাবে। ৩০ দিনের মধ্যে নথিপত্র খতিয়ে দেখে তিনি আদৌ ভারতীয় কি না, তা যাচাই করতে হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ‘ডিটেক্ট (চিহ্নিত করা), ডিলিট (মুছে দেওয়া) এবং ডিপোর্ট (ফেরত পাঠানো)’ নীতি নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। 

কী ভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, তা কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বিশদ বলা আছে। অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রতি রাজ্যে জেলা ধরে ধরে পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গঠন করতে বলেছে কেন্দ্র। 

যারা ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত হবেন, তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রের পোর্টালে আপলোড করতে হবে। 

তারপর তাদের তুলে দেওয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে। এদের ভারতে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করে দেওয়া হবে। 

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে তদন্ত শেষ হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীকে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ থেকেই তুলে নিয়ে যেতে পারে সীমান্তরক্ষী বা উপকূলরক্ষী বাহিনী। 

 সরাসরি তাদের দেশের সীমান্তের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে। মূলত, ভারতের মুসলিম জনগণকে হয়রানির জন্যই নানা ধরনের ফন্দি-ফিকির করে আসছে কট্টর হিন্দুত্বকাদী দল বিজেপি।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর