চীন সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান চুক্তি নিয়ে আর ধৈর্য ধরতে পারব না। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির নেতাদের মধ্যে ‘অভ্যন্তরীণ অশান্তি বেশ প্রকট’ বলেও মনে হচ্ছে তার।
ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের (ইরানের) একটি সমঝোতায় আসা উচিত।’
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হয়।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তৃতীয় সারির নেতাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। সত্যিকার অর্থে তারা প্রথম ও দ্বিতীয় সারির তুলনায় অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত আচরণ করছে এবং স্মার্ট। ওই প্রথম দুই সারি আর আমাদের মাঝে নেই।’
চীন সফরের প্রথম দিন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ সাক্ষাৎকার দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। এর কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন টেলিভিশনে তা প্রচার করা হয়।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে উপনীত হতে ফের আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটা চুক্তি করা উচিত। যেকোনো বিচক্ষণ ব্যক্তিই একটি চুক্তি করবে, কিন্তু তারা হয়তো উন্মাদ।’
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা না চালাত তাহলে ‘ইরান এতক্ষণে পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলত’।
এটা সত্যি ‘এতটাই নিকটবর্তী ছিল’ কিনা জানতে চান ফক্স নিউজের শন হ্যানিটি।
জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার তাই মনে হয়। ওই তিনটা স্থাপনায় এগুলো হচ্ছিল, আমরা সেখানে খুব জোর আঘাত করেছি।’
সম্ভবত চীন বাদে পৃথিবীর আর কোনো দেশ ওই স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে পারতো না, ভাষ্য তার।
এ সময় ‘বিশ্বের সবচেয়ে সেরা সামরিক’ বাহিনী গড়ে তোলা নিয়েও গর্ব করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলায় তা প্রমাণ করেছি। ইরানে প্রমাণ করেছি, ইরানকে সামরিকভাবে মুছে দেওয়া হয়েছে। কেবল সময়ের অপেক্ষা।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চীনও হরমুজ প্রণালি খোলা চায়।
তিনি আরো বলেন, ‘তিনি (শি) বলেছেন তারা সেখান থেকে অনেক তেল কেনে এবং সেটা অব্যাহত রাখতে চায় তারা। তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা দেখতে চান।’
হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা নিয়ে কোনো চুক্তি লাগলে শি তাতে সাহায্য করার প্রস্তাব দিয়েছে বলেও দাবি তার।
ট্রাম্প বলেন, ‘এত তেল কেনা যে কারও তাদের (ইরান) সঙ্গে অবশ্যই কোনো না কোনো ধরনের সম্পর্ক রয়েছে, তবুও তিনি বলেছেন, সাহায্য করতে পারলে ভালো লাগবে, যদি আমি কোনো ধরনের সহায়তায় আসি।’
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে ইরানে হামলা করে ‘প্রকারান্তরে চীনকে সহায়তা করেছে’ সে কথা তিনি প্রেসিডেন্ট শি-কে বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না, চীন চায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পাক।’
চীনের প্রেসিডেন্ট ইরানকে সামরিক অস্ত্রশস্ত্র দেওয়া বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও তার দাবি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তিনি আর সামরিক অস্ত্রশস্ত্র দেবেন না। এটা বেশ বড় কথা। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তারা সেখান থেকে অনেক তেল কেনেন এবং এটা চলুক এমনটাই চান তারা।’
বেইজিংয়ের দিক থেকে এ প্রসঙ্গে কোনো স্পষ্ট অবস্থান না এলেও বৃহস্পতিবারের বৈঠকে দুই প্রেসিডেন্ট ‘দুই দেশ ও বিশ্বের জন্য উদ্বেগজনক’ বড় বড় বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেছেন এবং তারা অনেক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন বলে সাংবাদিকদের বলেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে কোনো বিশেষ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে জানিয়েছে, দুই নেতা ‘একে অপরের উদ্বেগ ঠিকভাবে সামলানোর গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছেন’ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলোতে সহযোগিতা জোরদারে রাজি হয়েছেন।
হ্যানিটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের শুরুতে ট্রাম্প জানান, তিনি এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন, যখন চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশি সুবিধা নিত। কিন্তু এখন তার সঙ্গে শি-র চমৎকার সম্পর্ক হয়েছে।
চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক কী করে বিকশিত হয়েছে জানতে চাইলে রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘চীনের নেতা ‘আন্তরিক মানুষ’। তিনি পুরোপুরি কাজে থাকেন, কোনো বাড়াবাড়ি নেই। এটা ভালো ব্যাপার।’
হলিউড চাইলেও কোনো চলচ্চিত্রে শি-র ভূমিকায় কাউকে অভিনয় করাতে পারবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি তার মতো কাউকে পাবেন না। তিনি লম্বা, খুবই লম্বা। বিশেষ করে এই দেশে, কারণ এখানকার মানুষগুলো সাধারণত খানিকটা খাটো হয়ে থাকে।’
মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট জানান, শি-র সঙ্গে তার এবারের বাণিজ্য আলোচনা ‘গতবারের চেয়েও ভালো’ হয়েছে।
শেষবার চীন সফরে ট্রাম্প ৩৬টি চুক্তি করেছিলেন, এবার তার চেয়েও ‘অনেক বড় কিছু’ হচ্ছে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘চীন আমাদের কাছ থেকে সয়াবিনের মতো অনেক কৃষিপণ্য কিনতে যাচ্ছে।’
এর বদলে চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কী চাইছে— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে তারাও অনেক কিছু চাইছে।’
এফএ




