তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো পা রেখে চমক দিলেন দক্ষিণী সুপারস্টার অভিনেতা বিজয় থালাপতি। মাত্র বছর দুয়েক আগে যাত্রা শুরু করেছিল তার দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে)। নতুন দল হিসেবে শক্তিশালী এবং প্রতিষ্ঠিত দুই দলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া মোটেও সহজ ছিল না। তবুও সবাইকে অবাক করে দিয়ে তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৭টিতে এগিয়ে বিজয়ের দল।
অভিনয় জীবনে সাফল্যের পর প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে সাফল্যের দেখা পেলেন বিজয়। ভোটে তার জয় অনেকটাই নিশ্চিত। তাই ঘুরে ফিরে আলোচনায় উঠে আসছে কীভাবে এমন সাফল্য পেলেন বিজয়?
বিজ্ঞাপন
টিভিকে’র জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে নির্বাচনি প্রচারণায় নারী, কৃষক এবং তরুণদের জন্য একগুচ্ছ জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি। যা সাধারণ ভোটারদের মন জয় করে নিয়েছে। পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কড়া সমালোচনা করে রাজ্যবাসীর আস্থা অর্জন করেন তিনি।
বিজয়ের দলের ৯৫ পৃষ্ঠার বিশাল ইশতেহারে সততা ও ন্যায়পরায়ণ শাসনের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। ইশতেহার প্রকাশের সময় দলের প্রধান হিসেবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, তার দলের মূল ভিত্তি হবে একটি স্বচ্ছ ও সৎ প্রশাসন।
নির্বাচনি ইশতেহারে নারীদের জন্য বড় ধরনের চমক রাখা হয়েছে। পরিবারের ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত নারী প্রধানদের জন্য প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতাসহ বছরে ছয়টি এলপিজি সিলিন্ডার বিনামূল্যে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নারীদের সুরক্ষায় বিশেষ আদালত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে। মেয়েদের শিক্ষা ও স্বনির্ভরভাবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাসহ বেশ কিছু জনবান্ধব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে টিভিকে’র ইশতেহারে।
তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের টানতে বিজয় ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতহীন শিক্ষা ঋণ এবং বেকার ভাতার প্রস্তাব রেখেছেন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ‘সিএম পিপল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েট’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে কর ও বিদ্যুৎ বিলে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবও ইশতেহারে রয়েছে।
কৃষকদের মন জয়ে বিজয়ের দল সমবায় ঋণের বোঝা মকুব এবং ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষ করে বর্গাচাষি ও কৃষি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আর্থিক সহায়তার জন্য নতুন কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে তাদের বেতন বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত ভাতার বিষয়টিও এড়িয়ে যাননি তিনি।
সব মিলিয়ে বিজয়ের জনকল্যাণমূলক ও সংস্কারধর্মী ইশতেহার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিশাল প্রভাব ফেলেছে।
ইএইচ/




