বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

‘ইরান এমন অস্ত্র বের করবে, যা দেখে শত্রু হার্ট অ্যাটাক করতে পারে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

Iran
অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি / সংগৃহীত ছবি

ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেছেন, খুব শিগগিরই এমন এক অস্ত্র দিয়ে শত্রুর মুখোমুখি হব, যেটিকে তারা গভীরভাবে ভয় পায়। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার তিনি বলেন, ‘আর সেটি তাদের একেবারে কাছেই রয়েছে।’ অস্ত্রটির প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আশা করি, তারা এটা দেখে হার্ট অ্যাটাক করবে না।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, কমান্ডার শাহরাম ইরানি বলেছেন— ‘শত্রুরা ভুলভাবে ধারণা করেছিল যে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সাম্প্রতিক উসকানিহীন আগ্রাসনের মাধ্যমে তারা খুব অল্প সময়েই কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে যাবে। এখন সেই ধারণাটাই সামরিক একাডেমিগুলোতে হাস্যরসের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’


বিজ্ঞাপন


আগ্রাসনের সময় শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে নৌবাহিনীর প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে ইরানি বলেন, ‘মার্কিন বিমানবাহী রণতরি আব্রাহাম লিংকনের বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই প্রতিশোধমূলক হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই রণতরি থেকে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন বা কোনো ধরনের আকাশ অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি।’

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আগ্রাসনের মুখে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সংবেদনশীল মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০০ দফা দৃঢ় ও সফল পাল্টা আঘাত হেনেছে। ইরানি এই কমান্ডার আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধ অভিযানে নৌ ইউনিটভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকে ইরানের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এরপর তারা আরো ক্ষেপণাস্ত্র প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করতে বাধ্য হয়, যার জন্য অতিরিক্ত ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করতে হয়েছে। তারপরও তারা অচলাবস্থায় রয়েছে।’

জবাবে ইরানের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার আরেকটি অংশ ছিল কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য বন্ধ করে দেওয়া। এরপর ইরান প্রণালিটিতে আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে, যেখানে জাহাজ চলাচলকে সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর তাদের আরোপিত অবৈধ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ইরান এই উদ্যোগ নেয়।

কমান্ডার ইরানির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান আরব সাগরের দিক থেকেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘তারা যদি আর একটু কাছাকাছি আসে, আমরা কোনো বিলম্ব ছাড়াই অপারেশনাল পদক্ষেপ নেব।’ অবরোধ সত্ত্বেও, তিনি বলেন, ‘আমাদের বন্দরগুলো থেকে কিছু জাহাজ যাত্রা করেছে এবং কিছু তাদের গন্তব্যে পৌঁছেছে।’


বিজ্ঞাপন


এ ছাড়া, অবরোধের অংশ হিসেবে কিছু ইরানি জাহাজ অবৈধভাবে জব্দ করার জন্য মার্কিন বাহিনীর তীব্র নিন্দা জানান ইরানি। তিনি এই কর্মকাণ্ডকে শুধু ‘জলদস্যুতা’ নয়, বরং ‘জিম্মি করা’ হিসেবেও আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘তারা জাহাজে থাকা নাবিক ও তাদের পরিবারকে জিম্মি করে রেখেছে। আমেরিকানরা সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়েও খারাপ। কারণ, সোমালি জলদস্যুরা দারিদ্র্যের কারণে এমন কাজ করত, কিন্তু এরা তাদের নৃশংসতার সঙ্গে জিম্মি করাকেও যুক্ত করেছে।’

কমান্ডার দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী দেশের শহীদদের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ‘রক্তের শেষ বিন্দু পর্যন্ত’ শপথবদ্ধ। আমরা তাদের ওপর এমন আঘাত হানব, যা তাদের গভীর অনুশোচনায় ফেলবে।’

এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর