মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘কোনো আন্তর্জাতিক জলপথ কে ব্যবহার করবে তা ইরান ঠিক করবে— এটি কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’
গতকাল সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, ইরান সময়ক্ষেপণ করার চেষ্টা করছে এবং আমরা তা হতে দিতে পারি না। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরানের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অগ্রহণযোগ্য হতে পারে।’
বিজ্ঞাপন
ইরান বলেছে, চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলে তারা প্রণালিটি আবার উন্মুক্ত করবে।
তবে রুবিও এই প্রস্তাবকে নির্দোষ হিসেবে দেখেন না। তার ভাষায়, ‘তারা যখন বলে প্রণালি খুলে দেবে, এর অর্থ আসলে হলো—‘হ্যাঁ, প্রণালি খোলা থাকবে, তবে শর্ত হলো আপনাকে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে, তাদের অনুমতি নিতে হবে; না হলে তারা হামলা চালাবে, আর তাদেরকে আমাদের অর্থও দিতে হবে। এটি কোনোভাবেই প্রণালি উন্মুক্ত করা নয়; এগুলো আন্তর্জাতিক জলপথ।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইরান এমন একটি ব্যবস্থা স্বাভাবিক করে তুলতে পারে না এবং আমরাও তা মেনে নিতে পারি না— যেখানে তারা ঠিক করবে কে আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করবে এবং এর জন্য কত অর্থ দিতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ এবং স্থায়ীভাবে উত্তেজনা নিরসনে সম্প্রতি ৩ স্তর বা পর্যায়ের একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেছে একাধিক ইরানি সূত্র।
বিজ্ঞাপন
ইরানের নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং ইরান ও লেবাননে আর আগ্রাসী হামলা হবে না— এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে।
দ্বিতীয় পর্যায়: যদি প্রথম স্তরের দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মেনে নেয়, তাহলে দ্বিতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আলোচনা চলবে।
তৃতীয় পর্যায়: যদি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে এই যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মীমাংসায় পৌঁছায়, তখন ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
নতুন প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরানের অবস্থানের সমালোচনা করে ফক্স নিউজকে রুবিও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি নতুন করে খোলার কিছু নেই। পৃথিবীর অন্যান্য প্রণালির মতো হরমুজও আন্তর্জাতিক জলপথ। তারা হরমুজে নতুন কোনো ব্যবস্থার প্রচলন করতে পারে না, আমরা তা সহ্য করব না। (হরমুজ ইস্যুতে) এমন কোনো ব্যবস্থা আমরা মেনে নেব না, যেখানে ইরানিরা ঠিক করবে যে এই প্রণালি কারা ব্যবহার করবে।’
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিরোধের জেরে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত টানা প্রায় ৪০ দিন যুদ্ধ করার পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ওয়াশিংটন ও তেহরান। তারপর একটি স্থায়ী সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা। কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও সেই বৈঠক ব্যর্থ হয় এবং প্রতিনিধিরা কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না করেই ফিরে যান।
প্রথম দফা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্বিতীয় দফা সংলাপে আসার আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসতে চায়— সেক্ষেত্রে নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতে সেই সংলাপ হতে পারে।
ফক্স নিউজকে রুবিও বলেন, ‘ইরানিরা খুবই ভালো এবং অভিজ্ঞ আলোচক। আমরা শুধু এই নিশ্চয়তা চাই যে, ইরানের সঙ্গে যে চুক্তিই স্বাক্ষর হোক না কেন— সেটি যেন ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের মালিক হওয়া থেকে দূরে রাখে।’
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
এফএ




