লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এতে গত নভেম্বরে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানায়, দক্ষিণ লেবাননের আত-তিরি গ্রামে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় গাড়িতে থাকা দুইজন নিহত হন। পরে একই এলাকার একটি ভবনে আরেকটি হামলায় সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হন এবং আরেক সাংবাদিক জয়নাব ফারাজ গুরুতর আহত হন।
বিজ্ঞাপন
আল-আখবার পত্রিকার সাংবাদিক আমাল খলিল ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার সহকর্মী জয়নাব ফারাজের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর বলে জানিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, সাংবাদিকরা যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন সেই ভবনকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল তাদের (সাংবাদিকদের) ‘পিছু নিয়েছে’। অ্যাম্বুলেন্স যেন ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য আত-তিরি ও হাদ্দাথা শহরের সংযোগ সড়কেও হামলা চালানো হয়।
এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মরকোস বলেছেন, ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ দায়ী করি। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানাই।’
বিজ্ঞাপন
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না এবং উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত মাসেও দক্ষিণ লেবাননে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত একটি প্রেস গাড়িতে হামলায় তিন সাংবাদিক নিহত হয়েছিলেন।
ইসরায়েলের এই হামলার জবাবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ড্রোন ব্যবহার করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি আর্টিলারি অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত নিজেদের সেনাদের লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ‘শত্রু ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে।
গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে ইসরায়েল হত্যার পর থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়নি।
অন্যদিকে, লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় আহত আরেক ফরাসি সেনা মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। চিফ করপোরাল আনিসে গিরার্দিন গত ১৮ এপ্রিল গুরুতর আহত হন এবং মঙ্গলবার ফ্রান্সে নেওয়ার পর সেখানেই মারা যান।
লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (ইউএনআইএফআইএল) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলা রাষ্ট্রবহির্ভূত কোনো গোষ্ঠী, সম্ভবত হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে চালানো হয়েছিল। তবে হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
এই হামলাগুলো এমন সময় ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার শেষ হওয়ার কথা।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও দক্ষিণ লেবাননে স্থল আক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সীমান্ত এলাকায় একটি বাফার জোনও দখলে রেখেছে ইসরায়েল, যেখানে তাদের সেনারা অবস্থান করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমআই




