হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি হলো ‘ফাঁকা বুলি’, যা বাস্তবতার সাথে মিলে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামরিক দিকে মোড় নিলে তেহরান তার জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
সোমবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র এব্রাহিম রেজায়ই এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘এটা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং যে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি (ট্রাম্প) ক্ষুব্ধ, তার এই সিদ্ধান্ত বাজার পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলবে।’
রেজায়ই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা সম্ভবত আমাদের হাতে থাকা এমনকিছু কৌশল প্রকাশ করবো এবার, যা এখনও এই খেলায় প্রয়োগ করা হয়নি।’
এরআগে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান অভিমুখে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা সব ধরনের জাহাজ চলাচলে অবরোধ শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিজ্ঞাপন
সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল মার্কিন সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে আরব উপসাগর (পারস্য উপসাগর) ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানি সমস্ত বন্দরসহ ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলো অবরোধ প্রয়োগ করা হবে।’
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার থেকে তারা ইরানি বন্দরগুলো অবরোধ করা শুরু করবে। তবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য দেশে যাতায়াতকারী জাহাজ চলাচলে তারা 'বাধা সৃষ্টি করবে না'।
এদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের হুমকি প্রতিক্রিয়ায় কঠোর সতর্ক বার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেছে, ইরানের বন্দর যদি কোনো হুমকিতে পড়ে তাহলে পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও বলেছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বন্দরগুলোর নিরাপত্তা হয় সবার জন্য, নয়তো কারোর জন্যই নয়। আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক চলাচলের ওপর অপরাধী যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিধিনিষেধ অবৈধ এবং জলদস্যুতার শামিল।’
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের আইনগত অধিকার রক্ষা করাকে একটি স্বাভাবিক ও আইনগত কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে এবং নিজের জলসীমায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করা ইরানি জাতির একটি স্বাভাবিক অধিকার।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকির কথা উল্লেখ করে আইআরজিসি আরও বলেছে, সমস্ত ‘শত্রুদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট) জাহাজকে’ গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না, তবে তেহরান নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে অন্যান্য জাহাজ চলাচল করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও তেহরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করবে।
এদিকে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল)লেনদেনের শুরুতেই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেল ১০২ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর




