সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

হরমুজে মার্কিন অবরোধ হবে বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা: রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

শেয়ার করুন:

হরমুজে মার্কিন অবরোধ হবে বৈশ্বিক বাজারে বড় ধাক্কা: রাশিয়া

ইরানের বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরোপের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। এই ধরণের পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে মস্কো। 

সোমবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টে ইরানের বন্দর ও উপকূল অবরোধের ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়।’


বিজ্ঞাপন


তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘অনেক বিষয় এখনও অস্পষ্ট এবং বোঝা যাচ্ছে না। তাই, এ মুহূর্তে এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না আমি।’

ইরানের সমৃদ্ধকরণকৃত ইউরেনিয়াম রাশিয়ার কাছে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পেসকভ বলেন, ‘এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়নি। রাশিয়া এ ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত আছে।’

এরআগে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান অভিমুখে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা সব ধরনের জাহাজ চলাচলে অবরোধ শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। 

সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল মার্কিন সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে আরব উপসাগর (পারস্য উপসাগর) ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানি সমস্ত বন্দরসহ ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলো অবরোধ প্রয়োগ করা হবে।’ 


বিজ্ঞাপন


মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার থেকে তারা ইরানি বন্দরগুলো অবরোধ করা শুরু করবে। তবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য দেশে যাতায়াতকারী জাহাজ চলাচলে তারা 'বাধা সৃষ্টি করবে না'।

এদিকে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের মার্কিন ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল)লেনদেনের শুরুতেই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেল ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। 

ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের হুমকি প্রতিক্রিয়ায় কঠোর সতর্ক বার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেছে, ইরানের বন্দর যদি কোনো হুমকিতে পড়ে তাহলে পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও বলেছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বন্দরগুলোর নিরাপত্তা হয় সবার জন্য, নয়তো কারোর জন্যই নয়। আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক চলাচলের ওপর অপরাধী যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিধিনিষেধ অবৈধ এবং জলদস্যুতার শামিল।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের আইনগত অধিকার রক্ষা করাকে একটি স্বাভাবিক ও আইনগত কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে এবং নিজের জলসীমায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করা ইরানি জাতির একটি স্বাভাবিক অধিকার।’ 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকির কথা উল্লেখ করে আইআরজিসি আরও বলেছে, সমস্ত ‘শত্রুদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট) জাহাজকে’ গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না, তবে তেহরান  নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে অন্যান্য জাহাজ চলাচল করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও তেহরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করবে।


সূত্র: বিবিসি


এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর