রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

বৈঠকের মাঝে ট্রাম্পকে বার বার ফোন ভ্যান্সের! 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

শেয়ার করুন:

বৈঠকের মাঝে ট্রাম্পকে বার বার ফোন ভ্যান্সের! 

ইরানের সঙ্গে শনিবার (১১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত আমেরিকার শান্তি-আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তান থেকে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সদের। 

তবে ইরানের জন্য ‘সেরা প্রস্তাব’টি তারা রেখে এসেছেন। বৈঠক শেষে এমনটাই জানালেন ভ্যান্স। ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমেরিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভ্যান্স। 


বিজ্ঞাপন


তা ছাড়াও ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন বিশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কাশনার। 

বৈঠক চলাকালীন ট্রাম্পের সঙ্গে অনবরত যোগাযোগ রেখেছিলেন ভ্যান্সরা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, ৬ থেকে ১২ বার ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের ফোনে কথা হয়েছে। 

ট্রাম্পের বলে দেওয়া প্রস্তাবগুলিই ইরানের সামনে রেখেছিলেন ভ্যান্স। তাতে ইরানের জবাব, তাদের অবস্থান ফোনেই ট্রাম্পকে তিনি জানান। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও সুরাহা হল না। এতেই স্পষ্ট হয়, এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্য কারিগর আসলে ট্রাম্প নিজেই।

রোববার সকালে ভ্যান্স একটি বিবৃতি দিয়ে ‘দুঃসংবাদ’ দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে তাদের কোনও সমঝোতা হয়নি। কারণ, ইরান তাদের শর্ত মানতে চায়নি।

ছয় সপ্তাহের সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে আলোচনার টেবিলে বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল। টানা ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক করলেও শেষ পর্যন্ত পক্ষ দুটি সমঝোতায় পৌঁছতে না পারায় ভেস্তে গেছে শান্তি আলোচনা। এজন্য দুই পক্ষ একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েছে।

ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক ও কঠোর অবস্থান’ই আলোচনার অগ্রগতি থামিয়ে দিয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির যে সম্ভাবনা নিয়ে আশার আলো দেখা দিয়েছিল, তা আবারো অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঢেকে গেছে।

ইরান ঠিক কোন শর্ত মানতে চাইল না? ভ্যান্স সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে জানান, ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর প্রকাশ্যে তিনি কোনও সমঝোতা করতে চান না। তাই বৈঠকের ভিতরের কথা প্রকাশ্যে আনবেন না। তবে একটি জায়গাতেই ইরান-আমেরিকা আলোচনা ধাক্কা খেয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভ্যান্স। 

তিনি জানিয়েছেন, ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক বোমা তৈরি না-করার নিশ্চয়তা চান তারা। তা মেলেনি। ভ্যান্সের কথায়, ‘‘সহজ সত্যিটা হল, আমরা ইরানের কাছ থেকে পরমাণু বোমা তৈরি না-করার বিষয়ে একটা ইতিবাচক নিশ্চয়তা চাই। ওদের বলতে হবে যে, ওরা বোমা বানাবে না এবং পরমাণু বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা উপাদানও হাতে রাখবে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এটাই। সেই সমঝোতাতেই আমরা পৌঁছোতে চেয়েছি।

আমেরিকার হামলায় ইরানের পরমাণুকেন্দ্র সবই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন ভ্যান্স। তবে পরমাণু বোমা তৈরি না-করার মৌলিক কোনও ইচ্ছা ইরান দেখাচ্ছে না। সেটাই আমেরিকা দেখতে চায়।

শুধু এখনকার জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদী নিশ্চয়তা চান ভান্সরা। ইরান তাতে রাজি হয়নি। ভান্স জানিয়েছেন, ইরান এতে রাজি হবে বলে তিনি আশাবাদী এবং সেই আশা নিয়েই আমেরিকা ফিরছেন।

বিদেশে আটক ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে কি কথা হয়েছে বৈঠকে? ভ্যান্স জানান, আরও অনেক কিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এমন কোনও পরিস্থিতিতে তারা পৌঁছোতে পারেননি, যেখানে ইরান তাদের শর্ত মানতে রাজি হচ্ছে। 

ট্রাম্প ছাড়াও বৈঠক চলাকালীন ভ্যান্সরা ফোনে কথা বলেছেন পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে।

ভ্যান্সের এই বিবৃতির পর ইরান দাবি করেছে, আমেরিকার অবাস্তব, অযৌক্তিক দাবির কারণেই পাকিস্তানে আয়োজিত বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে।

তেহরান জানায়, সমঝোতার টেবিল ছাড়ার অজুহাত খুঁজছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবিগুলো অত্যন্ত বাড়াবাড়ি এবং উচ্চাভিলাষী। তারা এমন সব দাবি তুলেছে, যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন করতে পারেনি।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর