শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ভবানীপুর আসনে মনোনয়ন জমা দিলেন মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ভবানীপুর আসনে মনোনয়ন জমা দিলেন মমতা

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভবানীপুর বিধানসভা আসন থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই আসনে ভারতীয় জনতা পার্টির- বিজেপির প্রার্থী হয়ে লড়বেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

বুধবার (৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে এসে মনোনয়নপত্র জমা দেন মমতা। এসময় তার সঙ্গে ছিল বিশাল মিছিল। উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, কাউন্সিলর এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের নেতা সন্দীপ বক্সী প্রমুখ।


বিজ্ঞাপন


মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘আমি ৩৬৫ দিনই এখানে (ভবানীপুর) থাকি। আমার ধর্ম-কর্ম-আন্দোলন সব কিছুই ভবানীপুরকে ঘিরে। ছোট্টবেলা থেকেই এখানেই আছি, এখানেই থাকি। এখান থেকেই আমার সব কিছু। তাই ভবানীপুরের মানুষকে আমার ধন্যবাদ এবং নমস্কার জানাই।’

শুধু ভবানীপুরে নয়, রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রেই তৃণমূল বা তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।

কয়েক জন নারী ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মনের দুঃখ নিয়ে বলছি, এত মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। আমি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করায় ১ কোটি ২০ লাখের মধ্যে ৩২ লাখের নাম ফের তালিকায় উঠেছে। বাদবাকি ৫৮ লাখের ফাইল খোলাই হয়নি।’ এই বিষয়ে আবার আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে চমক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে বহুদিন আগে থেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন শুভেন্দু। বারবার প্রকাশ্যে সে কথা বলছিলেন। ভবানীপুরে ভোটার তালিকার সংশোধনের ব্যাপারেও তাকে সক্রিয় দেখা যায়। পরে প্রধানমন্ত্রী মোদির থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু। 

এরআগে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাত্র ১ হাজার ৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন শুভেন্দু। তবে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। গত সোমবার গভীর রাতে ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত জেলা-ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মোট ৯০ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাদের সিংহভাগই মুসলিম বলে উঠে এসেছে একটি সমাজ-গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার আওতায় মোট ৬০ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারকে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের পর ৩২ লাখ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, অন্যদিকে ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম চূড়ান্ত তালিকাতেই ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম বাদ পড়েছিল। ফলে সব মিলিয়ে বাদ পড়া নামের সংখ্যা ৯০ লাখের গণ্ডি পেরিয়ে গেল। যদিও তৃণমূল সভানেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ভোটারের নাম বাদ যাবে।

জেলা অনুযায়ী পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদেই সবচেয়ে বেশি ৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। তার পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা (৩ লাখ ২৫ হাজার ৬৬৬) এবং মালদহ (২ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৫)। এই তিন জেলাতেই ছাঁটাইয়ের মাত্রা তুলনামূলক বেশি।

তবে এখনও প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি বলেই জানিয়েছে কমিশন। বিবেচনাধীন তালিকার ৫৯ লাখ ৮৪ হাজার ৫১২ জনের তথ্য প্রকাশিত হলেও, প্রায় ২২ হাজারের বেশি ক্ষেত্রে ই-স্বাক্ষর বাকি রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে চূড়ান্ত সংখ্যায় কিছু পরিবর্তন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

উল্লেখ্য, ভারতের ‍নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুসারে, এবার বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আর ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে। 

সূত্র: আনন্দবাজার

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর