শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ইরানে হামলা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে সৌদি 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরানে হামলা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে সৌদি 

চার সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধে ইরানের ওপর হামলা আরও জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে দেশটি সরাসরি এই যুদ্ধে যোগ দেবে কিনা, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) একটি সৌদি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। 


বিজ্ঞাপন


মূলত এ বিষয়ে গত সপ্তাহে প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেছে সৌদি গোয়েন্দা সূত্রটি। 

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের সঙ্গে গত সপ্তাহে একাধিক ফোনালাপে ইরানের কট্টরপন্থী সরকারকে ধ্বংস করার জন্য দেশটির ওপর হামলা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ এনে দিয়েছে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মতে, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী হুমকি এবং দেশটির বর্তমান সরকারকে অপসারণের মাধ্যমেই কেবল এই হুমকির মোকাবিলা করা সম্ভব।


বিজ্ঞাপন


এবিষয়ে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, রিয়াদ শুধু সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখারই আহ্বান জানায়নি, বরং তা আরও তীব্র করার কথাও বলেছে। 

image

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরান যুদ্ধে সৌদি যুবরাজের সম্পৃক্ততার কথা অনেকটাই নিশ্চিত করেন। মঙ্গলবার সাংবাদিকরা নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ প্রিন্স সালমান একজন যোদ্ধা। তিনি আমাদের সঙ্গে লড়াই করছেন।’

প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সৌদি সেনাবাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, কিন্তু একজন সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, পাকিস্তানের নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে দেশটি এই পদক্ষেপ নিতে পারে।

সৌদি ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলহামেদ বলেন, ‘এখন যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো ইরানের সিদ্ধান্ত, যদি ইরান যুদ্ধ বন্ধে আন্তরিকতা দেখায়, তবে উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ করার একটি পথ এখনও রয়েছে। যদি তারা শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করে এবং হামলা অব্যাহত রাখে, তবে সৌদি পদক্ষেপ নেওয়ার সীমা অতিক্রম করা হবে।’

আলহামেদ আরও বলেন, ‘সৌদি আরব এখন পর্যন্ত আবেগপ্রবণভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না। এটি তার প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করছে এবং এমন একটি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে উত্তেজনা বাড়লে জবাব হবে সুপরিকল্পিত ও চূড়ান্ত।’

এদিকে এরআগেও একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও, সৌদি আরব প্রকাশ্যে যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে চাপ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সৌদি সরকার বলেছে, ‘সৌদি আরব এই সংঘাত শুরু হওয়ার আগে থেকেই এর শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে ছিল।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আজ আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো আমাদের জনগণ ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর প্রতিদিনের হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করা। ইরান গুরুতর কূটনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে বিপজ্জনক চরমপন্থা বেছে নিয়েছে। এটি সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পক্ষের ক্ষতি করে, তবে ইরানের নিজেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়।’

এই যুদ্ধের ফলে সৌদি আরবের জন্য ইতিমধ্যেই গুরুতর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সংকট দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার জবাবে চালানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

এছাড়াও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল-গ্যাস রফতানি মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করাসহ আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন এবং এমনকি তেহরান সরকারকে দুর্বল করার জন্য স্থল অভিযানের সম্ভাবনার কথাও বলেছেন।

বিশ্লেষকরা আরও সতর্ক করেছেন, সৌদি আরব একটি জটিল উভয়সঙ্কটের সম্মুখীন। ইরানকে দুর্বল করার মধ্যে কৌশলগত সুবিধা দেখলেও, দেশটি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণেও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ২০১৯ সালে সৌদি তেল স্থাপনায় হামলাসহ অতীতের বিভিন্ন হামলা ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার মুখে দেশটির দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবের বৃহত্তর অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, বিশেষ করে এর ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কারণ একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ দেশটির জ্বালানি রফতানি ব্যাহত এবং আর্থিক সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, এমন এক সময়ে যখন দেশটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার করছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর