শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

জ্বালানি সংকটে ভারতে ‘লকডাউনের’ আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

জ্বালানি সংকটে ভারতে ‘লকডাউনের’ আলোচনা

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে তৈরি হয়েছে এক অদৃশ্য অস্থিরতা। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের ওপরেও। বিশেষ করে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দেশটিতে। এরমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে ভারতের কেন্দ্র সরকার ‘আংশিক জ্বালানি লকডাউন’-এর মতো কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করছে বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। 

দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে ভারতেও। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ধাপে ধাপে একাধিক নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হতে পারে। এর জেরে বেশ কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতে ফের লকডাউন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। গুগল ট্রেন্ডস-এ ‘লকডাউন ইন ইন্ডিয়া’ কীওয়ার্ডটি দিয়ে কয়েক লাখ বার সার্চ রেকর্ড করা হয়েছে এবং এই কীওয়ার্ডটি বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিনটিতে ট্রেন্ডিং রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে সরকারের হাইপ্রোফাইল বৈঠকের আগেই সেই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


image

আরও পড়ুন: ভারতে জ্বালানি পরিস্থিতি 'উদ্বেগজনক', স্বীকার করলেন মোদি

সরকারী সূত্রের বরাতে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ‘জ্বালানি লকডাউন’ হলে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে— সে বিষয়ে ধারেণা দিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে-

ওয়ার্ক ফ্রম হোম: সরকারি ও বেসরকারি অফিসে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে, যাতে জ্বালানির ব্যবহার কম হয়।


বিজ্ঞাপন


নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ বন্ধ: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে দিনে কিছু সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হতে পারে।

ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার সীমিত: জ্বালানি খরচ কমাতে ব্যক্তিগত যানবাহনের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা হতে পারে।

অর্থ ব্যবহারে বিধিনিষেধ: নগদ লেনদেন এবং খরচের উপর কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপের চিন্তাভাবনা চলছে।

ব্যাংক থেকে টাকা তোলার সীমা: ভারতীয় রুপির মূল্য হ্রাসের প্রেক্ষিতে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার উপর ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হতে পারে।

দোকান ও রেস্তোরাঁর সময়সীমা কমানো: ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির খোলা রাখার সময় সীমিত করা হতে পারে।

জরুরি ক্ষেত্রে ছাড়: জরুরি পরিষেবা এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রয়োজনে কিছু ছাড় রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। সাধারণ মানুষকে বাড়িতে সীমিত পরিমাণ নগদ রাখার অনুমতিও দেওয়া হতে পারে।

এদিকে এনার্জি লকডাউনের এ জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। লকডাউনের খবরকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং এরকম কোনও প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে জনিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। 

আরও পড়ুন: ভারতে ভয়াবহ গ্যাস সংকট, বন্ধের শঙ্কায় লাখ লাখ হোটেল-রেস্তোরাঁ

শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ভারতে লকডাউন আসছে বলে যা প্রচার করা হচ্ছে, তা গুজব। ভারত সরকার এমন কোনও প্রস্তাব নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে না। আমাদের শান্ত, দায়িত্বপূর্ণ ও একজোট থাকতে হবে, এটা গুরুত্বপূর্ণ।এমন গুজব ও প্যানিক তৈরি করা ক্ষতিকারক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।’

পুরী আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতি ক্রমশ পরিবর্তনশীল। আমরা প্রতিনিয়ত জ্বালানি, জোগান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে কী কী ঘটছে, তার উপরে ক্রমাগত নজর রেখে চলেছি। যাতে আমাদের নাগরিকরা বাধাহীনভাবে তেল, জ্বালানি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের জোগান পেতে থাকেন, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে যাবতীয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার মুখেও ভারত লাগাতার স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করে চলেছে। আমরা সময়োপযোগী, সক্রিয় ও সমন্বয় বজার রেখে কাজ করে যাব।’

অন্যদিকে ভারতের সকল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা আছে প্রধানমন্ত্রী মোদির। সূত্রের খবর, আজ সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে পশ্চিমবঙ্গ-সহ যে রাজ্যগুলোতে ভোট রয়েছে, সেই রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেবে না। 

 সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর