মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পে। যুদ্ধের কারণে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। এতে বেঙ্গালুরু, চেন্নাই এবং মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরসহ দেশজুড়ে লাখ লাখ হোটেল এবং রেস্তোরাঁর বেশির ভাগই বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হোটেল মালিকদের সংগঠনগুলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট বন্ধ থাকার কারণে গত শনিবার এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছিল। এর মধ্যে গৃহস্থালীর রান্নার গ্যাসের দাম ৬০ রুপি এবং বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১১৫ রুপি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। তা সত্তেও গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ একদমই নেই।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় জারি করা এক আদেশে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে গ্যাসের সুষম বণ্টন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে বাসাবাড়ি, পরিবহন খাত এবং এলপিজি উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
In light of current geopolitical disruptions to fuel supply and constraints on supply of LPG, Ministry has issued orders to oil refineries for higher LPG production and using such extra production for domestic LPG use.
— Ministry of Petroleum and Natural Gas #MoPNG (@PetroleumMin) March 9, 2026
The ministry has prioritised domestic LPG supply to…
আদেশে আরও বলা হয়, ‘আমদানি করা এলপিজি থেকে হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো সংস্থাগুলোকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য খাতে এলপিজি সরবরাহের জন্য রেস্তোরাঁ/হোটেল/অন্যান্য শিল্পে এলপিজি সরবরাহের জন্য প্রতিনিধিত্ব পর্যালোচনা করার জন্য ওএমসি (তেল বিপণন সংস্থা)-এর একটি কমিটি গঠন এবং মজুদদারি ও কালোবাজারি এড়াতে ২৫ দিনের আন্তঃবুকিংও চালু করেছে সরকার।
তবে সার কারখানা ও চা শিল্পের মতো অন্যান্য সব খাত ‘কার্যকরী প্রাপ্যতার সাপেক্ষে’ তাদের চাহিদার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গ্যাস পাবে। এই ঘাটতি মেটাতে পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা গ্যাস পুরোপুরি বা আংশিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে সিরামিক ও টাইলস-সহ ভারতীয় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান বলেছে, তারা গ্যাসের সরবরাহ হ্রাসের মুখে পড়েছে; যা তাদের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলোও তাদের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
সোমবার বেঙ্গালুরু হোটেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় আজ মঙ্গলবার থেকে শহরজুড়ে হোটেল এবং রেস্তোরাঁর কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে।
এক বিবৃতিতে অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ‘যেহেতু গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, তাই হোটেলগুলো বন্ধ থাকবে। কারণ হোটেল শিল্প জ্বালানি গ্যাস একটি অপরিহার্য পরিষেবা, তাই সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসা পেশাদাররা, যারা প্রতিদিনের খাবারের জন্য হোটেল- রোস্তোরাগুলোর ওপর নির্ভর করেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
এতে আরও বলা হয়েছে, ‘তেল কোম্পানিগুলো ৭০ দিনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়েছিল, তবে তারা হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, যা এটি হোটেল শিল্পের জন্য ‘বড় ধাক্কা’। অতএব, আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এই বিষয়ে অবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন- বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করবেন এবং হোটেল শিল্পকে সহযোগিতা করবেন।’
চেন্নাইয়ের হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনে বলেছে, তাদের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
Respected Sir,@CMOTamilnadu @mkstalin @Udhaystalin
— Chennai Hotel Association (@ChennaiHotelAs1) March 9, 2026
The situation has now become even more critical. Commercial LPG distributors have completely stopped supplying cylinders, stating that they have no stock available. As a result, many restaurants are forced to shut down 👇 📣 pic.twitter.com/cY6bYROmKY
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম রবি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা এক চিঠিতে বলেছেন, ‘হোটেল-রেস্তোরাঁগেুলো ২৪x৭ ভিত্তিতে অনেক হাসপাতাল, আইটি পার্ক, কলেজ হোস্টেলের শিক্ষার্থী, ট্রেন এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও পর্যটকদের খাবার সরবরাহের করে থাকে। যদি বাণিজিক এলপিজি সরবরাহ বন্ধ হয়েছে যায়, তাহলে এ সকল শ্রেণির গ্রাহকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই অনেক পাঁচ ও তিন তারকা হোটেল এবং রেস্তোরাঁয় বুকিং বাতিল শুরু হয়েছে, যা এ খাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে মুম্বাইয়ের হোটেল শিল্পও জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র ঘাটতির কারণে ইতোমধ্যেই সেখানকার প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল এবং রেস্তোরাঁর কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছে। দাদর, আন্ধেরি এবং মাতুঙ্গার মতো এলাকার বিখ্যাত খাবারের দোকানগুলি ইতিমধ্যেই তাদের মেনু ছোট করা শুরু করেছে, ডাল মাখানি বা রাভা দোসার মতো ধীরে রান্না করা খাবার বাদ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চতুর্থ বৃহত্তম এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ভারত। এসব গ্যাসের বিশাল অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে দেশটি।
সূত্র: এনডিটিভি, এএফপি
এমএইচআর

