ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে প্রায় ৪৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতনের পর সোমবার (২৩ মার্চ) মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৭টা ৫৭ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২০৩ দশমিক ২১ ডলারে দাড়িয়েছে এবং টানা নবম সেশনেও দরপতন অব্যাহত রেখেছে। যদিও সেশনের শুরুতে স্বর্ণের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে ৪ হাজার ৯৭ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে এসেছিল, যা ছিল গত বছরের ২৪ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন।
বিজ্ঞাপন
একই সময় এপ্রিলে ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২০৫ দশমিক ১০ ডলারে নেমে এসেছে।
রয়টার্স বলছে, গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ১০ শতাংশেরও বেশি কমেছে, যা ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন। এছাড়া, গত ২৯ জানুয়ারী সর্বকালের সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারের পৌঁছেছিল স্বর্ণের দর, সেই তুলনাও বর্তমানে প্রায় ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘ইরান সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোয় এবং তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকায়, সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা সরে গিয়ে এখন বাড়ার শঙ্কা রয়েছে বিনিয়োগকারীরা, যা আয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে সোনার আকর্ষণ কমিয়ে দিয়েছে।’
গতকাল রোববার ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে আঘাত হানার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে এর প্রতিশোধ হিসেবে তারা উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালাবে। এর প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতেও ব্যাপক দরপতন এবং তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলারের অনেক ওপরে স্থির রয়েছে।
এ বিষয়ে ওয়াটারার বলেন, ‘এই ঝুঁকি-বিমুখ সময়ে উচ্চ তারল্যই স্বর্ণের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে হচ্ছে। শেয়ার বাজারের মন্দার কারণে বিনিয়োগকারীরা অন্যান্য সম্পদের মার্জিন কল মেটাতে স্বর্ণ কেনা বন্ধ করে দিয়েছে’।
এছাড়াও হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় অপরিশোধিত তেলের দাম উঁচুতে রয়েছে, যা পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাকে উস্কে দিচ্ছে। যদিও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি সাধারণত ঝুঁকি কমানোর উপায় হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ায়, উচ্চ সুদের হার এই অনুৎপাদনশীল সম্পদটির চাহিদা কমিয়ে দেয়।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুগুলোর দামেও পতন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার স্পট রুপার দাম ৬ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশামিক ৬৬ ডলারে নেমে এসেছে, গত ২৯ জানুয়ারী সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ১২১ দশমিক ৬৪ ডলারে ছুঁয়েছিল রুপা।
এছাড়াও প্ল্যাটিনামের দাম ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৯৯ দশমিক ২৫ ডলারে নেমে এসেছে। আর ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৫২ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমেছে প্যালাডিয়াম।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর

