‘আইআরআইএস বুশেহর’ নামের একটি ইরানি জাহাজ শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরের কাছে এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন এলাকায় নোঙর করা রয়েছে। জাহাজটি শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি চেয়েছে এবং ইতোমধ্যেই জাহাজের ক্রুদের উদ্ধার করে তীরে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছের শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে।
বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, শ্রীলঙ্কায় ইরানি দূতাবাস ও শ্রীলঙ্কা সরকারের মধ্যে আলোচনার পর ক্রুদের উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট জাহাজের অধিনায়ক। সেই অনুযায়ী আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ওই জাহাজের কাছে পৌঁছেছে এবং ক্রুদের উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দিসানায়েকে বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে ২০৮ জন ক্রুকে তীরে আনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ জন কর্মকর্তা, ৮৪ জন ক্যাডেট, ৪৮ জন সিনিয়র নাবিক এবং ২৩ জন নাবিক রয়েছেন।
লঙ্কান প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা এখন ওই ২০৮ জনকে জাহাজ থেকে আমাদের নৌযানে নিয়ে এসে কলম্বো বন্দরে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এরপর ওই জাহাজের ক্রু ও আমাদের নাবিকদের ত্রিনকমালি বন্দরের এলাকায় নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আরও তিনটি ইরানি জাহাজ ৯ ও ১৩ই মার্চ শ্রীলঙ্কা সফরের অনুমতি চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে। ইরানি সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই সফরের জন্য শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চেয়েছিল।
চলমান বা ভবিষ্যতের কোনো আন্তর্জাতিক সংঘাতে শ্রীলঙ্কার ভূখণ্ড, সমুদ্রসীমা কিংবা আকাশসীমা কোনোভাবেই ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে।
বিজ্ঞাপন
এরআগে গত বুধবার পূর্ব ভারতের একটি বন্দর থেকে ইরানের দিকে যাত্রা করা ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস ডেনা’ হামলায় কমপক্ষে ৮৭ জন নিহত হয়েছেন। এদিন ভোরের দিকে ইরানি নৌ বাহিনীর ‘আইআরআইএস ডেনা’ জাহাজটি থেকে একটি বিপদ সংকেত পায় শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী। পরে সকাল ৬টার দিকে জাহাজটি উদ্ধার অভিযানে শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ও একটি বিমান মোতায়েন করা হয়।
উদ্ধারকারী দল জাহাজটি থেকে আহত ৩২ জনকে উদ্ধার করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী গ্যালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, জাহাজটির নথিপত্র অনুযায়ী প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মহড়া সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানি জাহাজটি গত ১৮ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগরে অনুষ্ঠিত ভারতের বার্ষিক নৌ মহড়ায় ‘মিলান ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছিল এবং মহড়া শেষে ইরানের দিকে ফিরে যাচ্ছিল।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে ডুবিয়ে দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেকে নিরাপদ মনে করেছিল’। জাহাজটি টর্পেডো দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে উপসাগর থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে কোনও সতর্কতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুদ্ধজাহাজটিতে হামলা চালানোর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
বৃহস্পতিবার এক এক্স বার্তায় তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে নজির স্থাপন করেছে তার জন্য তারা তীব্র অনুশোচনা করবে, যুদ্ধজাহাজটি ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি ছিল।’
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি
এমএইচআর

