বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ইরানকে ‘সুপারসনিক জাহাজ বিধ্বংসী’ ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরানকে ‘সুপারসনিক জাহাজ বিধ্বংসী’ ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে চীন

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র আশঙ্কার মাঝেই চীনের কাছ থেকে সুপারসনিক জাহাজ বিধ্বংসী ‘সিএম-৩০২’ ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে ইরান। এ বিষয়ে উভয় পক্ষ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। 

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 


বিজ্ঞাপন


প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে তৈরি সিএম-৩০২ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার এই চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে, এই আলোচনা এমন সময়ে হচ্ছে- যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি এলাকায় বড় পরিসরে নৌবাহিনী মোতায়েন করছে এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি। 

অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার সিএম-৩০২ ক্ষেপণাস্ত্রটি নিম্ন উচ্চতায় ও উচ্চ গতিতে উড়ে শত্রুপক্ষের নৌ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হাতে পেলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং এই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে দাড়াবে।

image

রয়টার্স জানিয়েছে, অন্তত দুই বছর ধরে চলা এ ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত আলোচনা গত বাছরের জুনে জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর গতি পায়। 


বিজ্ঞাপন


আলোচনার সঙ্গে জড়িত ছয়টি সূত্র ( ইরান সরকারের তিন কর্মকর্তা ও তিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা) জানিয়েছে, সিএম-৩০২ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ে আলোচনার জন্য সম্প্রতি ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসুদ ওরাই-সহ ঊর্ধ্বতন ইরানি সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা চীন সফর করেছেন।

এদিকে সম্ভাব্য চুক্তিতে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে, ইরান কতটা অর্থ প্রদানে সম্মত হয়েছিল, অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে চীন এখন চুক্তিটি মেনে চলবে কিনা তা জানতে পারেনি রয়টার্স।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ থিঙ্ক ট্যাঙ্কের জ্যেষ্ঠ ইরান বিষয়ক গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ, ‘ইরানের যদি ওই অঞ্চলে জাহাজ আক্রমণ করার সুপারসনিক ক্ষমতা থাকে, তাহলে তা সম্পূর্ণ পরিবর্তন আনবে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে প্রতিহত করা খুবই কঠিন।’

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘মিত্রদের সঙ্গে ইরানের সামরিক চুক্তি রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সেই অংশীদারিত্ব কাজে লাগানোর উপযুক্ত সময়’। 

এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আলোচনা সম্পর্কে তারা অবগত নয়। আর চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মন্তব্যের জন্য অনুরোধের জবাব দেয়নি। এছাড়াও হোয়াইট হাউসের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: রয়টার্স

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর