বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ইরানের কাছে মোতায়েন মার্কিন রণতরীর ৬৫০ টয়লেট নষ্ট, বিপাকে ৫০০০ নাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরানের কাছে মোতায়েন মার্কিন রণতরীর ৬৫০ টয়লেট নষ্ট, বিপাকে ৫০০০ নাবিক

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা প্রস্তুতি হিসেবে কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানের বৃহত্তম বাহিনী তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ও বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ বর্তমানে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা বে নৌঁঘাটিতে অবস্থান করছে, যা ইরান থেকে মাত্র আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে। তবে রণতরীতে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিক ইরানের সঙ্গে সংঘাতে চেয়েও বড় সমস্যা মুখোমুখি হয়েছে।

ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড গত বছরের জুন মাস থেকে সমুদ্রে রয়েছে। এতে বিশাল এই রণতরীতে নাবিকদের জন্য বরাদ্দ টয়লেটগুলো এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। রণতরীটির ৬৫০টি টয়লেট নষ্ট হয়ে গেছে, যা সমুদ্রে নাবিকদের অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। 


বিজ্ঞাপন


গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ক্ষেত্রে ফোর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। সেই অভিযানের পরই কোনো ধরণের বিশ্রাম ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জন্য এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, সাধারণত একটি ক্যারিয়ার (বিমানবাহী রণতরী) সমুদ্রে মোতায়েন ৬ মাস স্থায়ী হয়। তবে ফোর্ডের নাবিকরা টানা ৮ মাস ধরে সমুদ্রে রয়েছেন এবং এই সময়কাল ১১ মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর যেকোনো যুদ্ধজাহাজের একটানা মোতায়েন রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

টয়লেট এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা

 

এদিকে টানা ৮ মাস সমুদ্রে কাটানোর ফলে রণতরীটির ওপরে মারাত্বক প্রভাব পড়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ এবং আপগ্রেড স্থগিত থাকায় সরঞ্জামগুলো অকেজ হয়ে ভেঙে যায়। এরমধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এটির পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।

গত জানুয়ারিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআর রিপোর্ট করেছিল, ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ ক্যারিয়ারের প্লাম্বিং সিস্টেমটি (পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা) প্রায় অচল হয়ে গেছে। এতে ক্যারিয়ারের টয়লেটগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, যদিও নাবিকরা লিকেজ ঠিক করার জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।

এনপিআর আরও জানিয়েছে, ‘যেহেতু এটি একটি ভ্যাকুয়াম সিস্টেম, তাই একটি অংশে সমস্যা হলে জাহাজের সেই অংশের সমস্ত টয়লেট ব্লক হয়ে যায়, যার ফলে রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের জন্য সমস্যাটি খুজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

নাবিকদের ব্যক্তিগত সমস্যা

অন্যদিকে জাহাজে থাকা একজন নাবিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, টানা কাজ করতে করতে বেশিরভাগ ক্রু সদস্যরা ক্ষুব্ধ এবং বিরক্ত, এমনকি মোতায়েন শেষ হওয়ার সাথে সাথে নৌবাহিনী ছেড়ে দিতে চান অনেকে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, জাহাজে থাকা বেশিরভাগ নাবিকই ২০ বছরের কম বয়সী তরুণ ও তরুণী, যারা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন না। কারণ জাহাজের অবস্থানের  গোপনীয়তা রক্ষায় তাদের মোবাইল ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ মানতে হয়। 

সূত্র: এনডিটিভি

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর