জানুয়ারির মাঝামাঝিতে ঘূর্ণিঝড় ‘হ্যারি’-এর কারণে সৃষ্ট দৃর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ভূমধ্যসাগরে অন্তত এক হাজার অভিবাসী নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে শঙ্কা করছে ইতালিয়ান এনজিও ‘মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস’।
সংস্থাটি জানিয়েছে, লিবিয়া ও টিউনিশিয়ার শরণার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় অভিবাসন রুটে অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হতে পারে। এখই সঙ্গে ইতালি ও মাল্টার কর্তৃপক্ষকে বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও উদ্ধার প্রচেষ্টায় ঘাটতির অভিযোগ এনেছে মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এ নিয়ে বিবৃতিতে দিয়েছেন মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস-এর প্রেসিডেন্ট লরা মারমোরালে বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির চিহ্ন সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে স্পষ্ট হচ্ছে। আর ইতালি ও মাল্টার সরকার এ বিষয়ে নীরব রয়েছে এবং কিছুই করছে না।’
স্যাটেলাইট টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ইনমারস্যাট-এর মাধ্যমে রোমের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের পাঠানো তথ্যে জানানো হয়েছে, ২৪ জানুয়ারির আগে কমপক্ষে ৩৮০ জন সাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।
আটটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানকে কেন্দ্র করে এই বার্তাটি দেওয়া হয়। টিউনিশিয়ার স্ফ্যাক্স শহর থেকে ১৪ থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে রওনা হয়েছিল ওই নৌকাগুলো। এই আটটি নৌকায় মোট ৩৮০ জন অভিবাসী ছিলেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও ছিলেন বলে জানা গেছে।
মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস জানিয়েছে, এরপর ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো নৌযানই শনাক্ত করা যায়নি এবং কোনো নিশ্চিত উদ্ধারের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়নি।
ঘূর্ণিঝড় হ্যারি-এর প্রভাবে ওই সময়ে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরে ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল সাত মিটার বা ২২ ফুট এবং বাতাসের গতি ছিল ৫৪ নটেরও বেশি। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত দুই দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে সবচেয়ে বিপজ্জনক সামুদ্রিক পরিস্থিতি ছিল তখন। এরপর থেকে ইউরোপীয় সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি বলেও জানায় এনজিওটি।
টিউনিশিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের বরাত দিয়ে এনজিওটি জানিয়েছে, ১৫ জানুয়ারির পর থেকে স্ফ্যাক্সের কাছের অস্থায়ী শিবিরগুলোতে টিউনিশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর চাপ বাড়তে থাকে। তারপরও উপকূলীয় অঞ্চল থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ হয়ে অনেক নৌকা সাগরে নেমেছিল। কারণ, ওই সময় সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অভিবাসীরা।
অভিবাসীদের বর্ণনা অনুযায়ী, অনেক নৌকা আর কখনও ফিরে আসেনি এবং নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও তাদের বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি।
এনজিওটি জানিয়েছে, ওই সময়টায় এক দালাল পাঁচটি নৌকা পাঠিয়েছিল। প্রতিটি নৌকায় ৫০ থেকে ৫৫ জন করে মানুষ ছিলেন। অভিবাসী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্ফ্যাক্সের দক্ষিণে বিভিন্ন উপকূলীয় স্থান থেকে ডজনখানেক নৌকা রওনা দিয়েছিল।
এগুলোর মধ্যে শুধু ২২ জানুয়ারি একটি নৌকা লাম্পেদুসায় পৌঁছেছিল বলে জানা গেছে। ওই নৌকা থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়া, ওই নৌকায় থাকা এক বছরের যমজ শিশুও সাগরে নিখোঁজ হয়েছে। ওই নৌকাটি ছাড়া অন্যান্য নৌকাগুলো সাগরে হারিয়ে গেছে বলেই ধারণা করছে এনজিওটি।
মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মাল্টা কর্তৃপক্ষ সাগর থেকে ডজনখানেক মরদেহ উদ্ধার করেছে। এছাড়াও ৩০ জানুয়ারি মাল্টার সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অঞ্চলে বেসামরিক উদ্ধারকারী জাহাজ ওশান ভাইকিং এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে মরদেহটি সিরাকুজা পাঠানো হয়েছে।
এনজিওটি বলছে, তথ্য এখনও খণ্ডিত এবং কখনও কখনও পরস্পরবিরোধী। কিন্তু সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরে যা ঘটে গেছে তার ব্যাপ্তি সরকারি রিপোর্টের চেয়ে অনেক ভয়াবহ। নিখোঁজ ব্যক্তিদের শত শত পরিবার, আত্মীয় ও বন্ধুরা গভীর হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেছে মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস।
সূত্র: আনাদোলু, ইনফোমাইগ্রেন্টস
এমএইচআর

