রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

আলোচনার জন্য তুরস্কে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

আলোচনার জন্য তুরস্কে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই একদিনের সফরে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, এই সফরে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সাথে দেখা করার কথা রয়েছে আরাঘচির। 


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, পারস্পারিক স্বার্থের ভিত্তিতে তেহরান প্রতিবেশীদের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়তে চায়। এরই অংশ হিসেবে ইস্তাম্বুল সফরে গেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।   

তুর্কি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সফরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রশমনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেবে তুরস্ক। এছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নের ওপরও আলোচনা করবেন দুউ দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক। 

আনাদোলু জানিয়েছে, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান এবং ইরানি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৈঠকের পর  স্থানীয় সময় দুপুর ১.৪৫ মিনিটে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করবেন। যেখানে তারা কিঝু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেবেন  বলে আশা করা হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


প্রসঙ্গত, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সময়ে তুরস্ক সফর করছেন যখন তেহরানে মার্কিন হামলার শঙ্কা তুঙ্গে। তবে আঞ্চলিক নেতাদের বিশ্বাস, উচ্চস্তরের এই বৈঠকের পর তেহরানে যেন হামলা না চালায় তাতে যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাবে তুরস্ক। 

এরআগে বুধবার কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনা হামলা একটি ভুল সিদ্ধন্ত হবে বলে সতর্ক করছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। একই সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ওয়াশিংটন এবং তেহরানকে কূটনীতির মাধ্যমে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী মোতায়েনের সমালোচনা করে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আবার যুদ্ধ শুরু করা হবে ভুল একটি সিদ্ধান্ত।’

দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাকবিতণ্ডা সত্ত্বেও একটি কূটনৈতিক সমাধান অর্জনযোগ্য উল্লেখ করে ফিদান জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরান আবারও পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা করতে প্রস্তুত।’

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে তুরস্কের এই শীর্ষ কূটনীতিক আরও বলেন, ‘আমেরিকান বন্ধুদের কাছে আমার পরামর্শ, ইরানের সঙ্গে বিরোধগুলো একে একে মিটিয়ে নিন। পারমাণবিক দিয়ে শুরু করুন, এটি বন্ধ করুন, তারপর অন্যগুলো। যদি আপনারা একসঙ্গে সব ইস্যু সমাধনি করতে চান, তাহলে আমাদের ইরানি বন্ধুদের পক্ষে এটি হজম করা খুব কঠিন হবে। কখনও কখনও, এটি তাদের কাছে অপমানজনক বলে মনে হতে পারে।’ 

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইরান আঞ্চলিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করতে পারে, তবে তাদের আগে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আস্থা তৈরি করতে হবে। তাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত যে আঞ্চলিক দেশগুলি তাদের কীভাবে দেখছে।’

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বিশাল সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যেই ইরানের আরও কাছে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ। 

মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মার্কিন বিমান বাহিনী মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বহু-দিনের প্রস্তুতি মহড়া পরিচালনা করবে, যাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এলাকা জুড়ে যুদ্ধ বিমান মোতায়েন, শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের টিকে থাকার ক্ষমতা পরীক্ষা করা যায়। বেশ কিছুদিন এই মহড়া চলবে।’

অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। এরপরই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড এবং জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না বলে ঘোষণা দেয়।

সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু

এমএইচআর

 

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর