পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার।
বৃহস্পতিবার জিও নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় তারার জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গত ২৪ জানুয়ারী রাতে ‘২০ মিনিটের’ চোখের চিকিৎসার জন্য রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘প্রথমে আদিয়ালা কারাগারে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা ইমরান খানকে পরীক্ষা করেছিলেন, পরে তারা সুপারিশ করেন একটি ছোট চিকিৎসা প্রক্রিয়ার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এরপরই তাদের পরামর্শ মেনে গত শনিবার রাতে তাকে পিমস-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ইমরানের লিখিত অনুমোদনের পরই পিমসে তার চোখের বিশদ পরীক্ষা করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের পরীক্ষা শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়ে আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলাকালীন তার স্বাস্থ্য স্থিতিশীল ছিল। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। জেলের নিয়ম মেনে সকল বন্দির মতো তাকেও নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।’
বিজ্ঞাপন
এদিকে ইমরানের দল পিটিআই বলেছে, তারা বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানতে পেরেছেন, ইমরান খানের ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিআভিও) ধরা পড়েছে, যার ফলে সঠিক চিকিৎসা না পেলে ইমরান খান চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন।
গত ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ইমরান খানের সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান সরকার। তবে গতকাল মঙ্গলবারও পিটিআই এমপিরা ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে (আইএইচসি) একটি নতুন আবেদন দাখিল করেছেন।
এদিকে ইমরান খানের মেডিকেল রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তার বোন নওরীন নিয়াজি।
মঙ্গলবার এক এক্স বার্তায় তিনি বলেন, একাধিক সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম সূত্রের মতে, আমাদের ভাই ইমরান খানকে রাতের আড়ালে চোখের চিকিৎসার অজুহাতে পিমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তাকে তিন ঘন্টা রাখা হয়েছিল এবং তারপর চরম রহস্য এবং ভয়ঙ্কর নীরবতার পরিবেশে আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।’
সরকারের কাছে ইমরানের বোন প্রশ্ন রাখেন, ‘যদি প্রতিবেদনগুলো সত্য হয় তবে কেন ইমরান খানের পরিবার এবং আইনজীবীদের কাছে সত্য বলার সাহস কারো নেই? কার কাছ থেকে এবং কার নির্দেশে এটি গোপন করা হচ্ছে? আমাদের ভাইকে জেলের ভেতরে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, আর কেন আমাদের পরিবার এবং আইনজীবীদের অন্ধকারে রাখা হচ্ছে?’
প্রসঙ্গত, একাধিক মামলায় অভিযুক্ত পিটিআইয়ের প্রধান ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তার সঙ্গে সাক্ষাতে অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর ভুয়া খবরও ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্র: ডন
এমএইচআর

