বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ‘ট্রোজান ঘোড়া’ আমিরাত: সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ‘ট্রোজান ঘোড়া’ আমিরাত: সৌদি

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে দখলদার ইসরায়েলের ‘ট্রোজান ঘোড়া’ বা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে বর্ণনা করছেন সৌদি আরবের শূরা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য ড. আহমেদ বিন উসমান আল-তুয়াইজিরি। 

তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব অঞ্চলে ইসরায়েলের প্রভাব বিস্তার এবং অস্থিতিশীল করতে সহায়তা করছে আমিরাত। খবর মিডেল ইস্ট মনিটরের।


বিজ্ঞাপন


সাবেক এ শূরা সদস্য একটি প্রবন্ধে এসব কথা উল্লেখ করেছেন বলে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট মনিটর।

গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে প্রাচীন ট্রয় নগরী দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ১০ বছর অবরোধ আরোপ করে রেখেছিল গ্রিক সৈন্যরা। কিন্তু এত সময় ধরেও সফলতা না পাওয়ায় তারা কূটকৌশল বা ষড়যন্ত্র করে। 

আরও পড়ুন: 

এর অংশ হিসেবে গ্রিকরা বিশাল একটি কাঠের ঘোড়া তৈরি করে এবং এতে কিছু সৈন্য লুকিয়ে রাখে। যা ট্রোজান ঘোড়া হিসেবে পরিচিত।


বিজ্ঞাপন


অপরদিকে বাকি সেনারা জাহাজে করে চলে যাওয়ার ভান ধরে। ট্রয় নগরীর মানুষ কাঠোর ঘোড়াটিকে যুদ্ধের স্মারক মনে করে এটি নগরীর ভেতর নিয়ে আসেন। 

এরপর কাঠের ঘোড়ার ভেতর থাকা সেনারা বেরিয়ে আসেন এবং ট্রয় নগরীর মানুষ যখন রাতের বেলা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তখন সেটির ভেতর থাকা প্রায় ৩০ জন সেনা প্রধান প্রবেশদ্বার খুলে দেন। 

এরপর গ্রিকদের বিপুল সেনা ট্রয়ে প্রবেশ করে এটি প্রথমে দখল ও পরে আগুন জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দেয়। ট্রোজান ঘোড়াকে ষড়যন্ত্রের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

ড. আহমেদ বিন উসমান আল-তুয়াইজিরি তার প্রবন্ধে লিখেছেন, সৌদি আরব এবং আরব অঞ্চলের প্রধান শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য আমিরাত দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: 

তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক গড়েছে সৌদির প্রতি শত্রুতা, সৌদির ধর্মীয়, ভূরাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোর প্রতি হিংসা থেকে। এছাড়া আমিরাত এ অঞ্চলে প্রভাবশালী দেশও হতে চায়।

তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েলি-আমিরাত সম্পর্ক আরব ও মুসলিম ঐক্যের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি বলেন, “আমিরাত নিজেকে ইহুদিবাদের হাতে সমর্পণ করেছে।”

তিনি তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন ফিলিস্তিনের গাজায় দখলদার ইসরায়েলের সামরিক বর্বরতায় সরাসরি সহায়তা করেছে আমিরাত। এছাড়া ফিলিস্তিনি প্রতিরক্ষা গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালাতে আমিরাত তাদের লোহিত সাগর ও হর্ন অব আফ্রিকায় থাকা ঘাঁটি ইসরায়েলকে ব্যবহার করতে দিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এছাড়া ইয়েমেন, লিবিয়া, সুদান, তিউনিশিয়া, মিসর এবং সোমালিয়াকে অস্থিতিশীল করতে আমিরাত সহায়তা করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন সৌদির শূরা কাউন্সিলের সাবেক এ সদস্য।

-এমএমএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর