ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পশ্চিবঙ্গের এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দেশটির কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে। মঞ্জুর আলম লস্কর (৩২) নামে নিহত যুবকের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনায়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বুধবার রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলু গ্রামে ৩২ বছর বয়সী মঞ্জুরকে চুরির অপবাদে পিটিয়ে হত্যা করে হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, নিহত মঞ্জুর পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি প্রায় এক দশক ধরে কোমারোলুতে জরি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
পারিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কোমারোলুতে বসবাস করা সত্ত্বেও মঞ্জুরকে বাংলাদেশি হিসেবে অভিহিত করে সেখান থেকে চলে যেতে বারবার হুমকি দেয় হিন্দুত্ববাদীরা। এর মধ্যেই মঙ্গলবার তারা প্রথমে মঞ্জুরকে অপহরণ করে এবং ২৫ হাজার রুপি মুক্তিপণ দাবি করে।
মঞ্জুরের স্ত্রী জানান, মঙ্গলবার একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ২৫ হাজার মুক্তিপণ চেয়ে তাকে ফোন করেছিল অপহরণকারীরা। তবে আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকায় তারা মাত্র ৬ হাজার রুপি জোগাড় করতে পেরেছিলেন, সেই অর্থও অনলাইনের মাধ্যমে পাঠান। তবে বুধবার রাতে তারা জানতে পারে মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঞ্জুরের ভগ্নিপতি, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এবং রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান গিয়াসউদ্দিন লস্কর অভিযোগ করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত এবং হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা এটি ঘটিয়েছে। মঞ্জুরকে প্রথমে বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হয়েছিল এবং পরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করার আগে একটি চুরির মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে অজ্ঞাতপরিচয় ফোনকারী এবং অন্যরা আমার শ্যালককে হত্যা করেছে।
মঞ্জুরের পরিবার ইতিমধ্যেই কোমারোলু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং যে নম্বর থেকে মুক্তিপণের চেয়ে ফোন করা হয়েছিল তা দিয়েছে। তারা পশ্চিমবঙ্গের সরকারকে অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা, পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে অনেক শ্রমিকরা দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, রাজধানী দিল্লি, হরিয়ানাসহ বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে যান। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকজন মুসলিম বাসিন্দাকে হত্যা করা হয়েছে।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
এমএইচআর

