সম্ভাব্য মার্কিন হামলার হুমকির মধ্যেই ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব। তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলায় তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না বলে ইরানি কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেছে রিয়াদ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।
বিজ্ঞাপন
সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে বলেছেন, ‘সৌদি আরব সরাসরি তেহরানকে জানিয়েছে যে তাদের বিরুদ্ধে নেয়া কোনো সামরিক অভিযানের অংশ তারা হবে না এবং সে উদ্দেশে সৌদি ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।’
বার্তাটি ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সরকারের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্র।
অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা না চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব, ওমান এবং কাতার। ব্যক্তিগতভাবে সাথে লবিং করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভের বিষয়ে এই দেশগুলো প্রকাশ্যে নীরব থাকলেও, তারা পর্দার আড়ালে থাকা ট্রাম্প প্রশাসনকে তেহরানে হামলার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য চাপ দিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরব কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের যেকোনো সামরিক প্রচেষ্টা হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে, যা একটি কৌশলগত জলপথ যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়।
তারা আশঙ্কা করছে, মার্কিন বাহিনী যদি েইরানে হামলা চালায়, তাহলে এই অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো বিষয়ে বিভিন্ন মতামত শোনেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি যে সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে ভালো মনে করেন তা নেন।’
এদিকে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটি ও নৌবহরে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান।
এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘তেহরান সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে তুরস্ক পর্যন্ত আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে ওই দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করা হবে।’
এমন হুমকির মধ্যেই মধ্যপ্রচ্যে সবচেয়ে বড় ঘাঁটি— কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ ঘাঁটি থেকে বেশ কিছু সেনা সদস্যদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা নিরাপত্তাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে নিজেদের আকাশসীমায় সবধরনের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান।
অন্যদিকে উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-কে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়— পেন্টাগন। গত বছরের জুনে ইরানে হামলার আগেও আরব সাগরে রণতরী মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: ডেইলি সাবাহ, আনাদোলু
এমএইচআর

